Home আঞ্চলিক কুষ্টিয়ায় বিষমুক্ত করলা চাষে সাড়া: ভালো ফলনের পরও কম দামে হতাশ কৃষক

কুষ্টিয়ায় বিষমুক্ত করলা চাষে সাড়া: ভালো ফলনের পরও কম দামে হতাশ কৃষক

4

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি।।

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় প্রথমবারের মতো ‘উত্তম কৃষি চর্চা’ বা গ্যাপ পদ্ধতিতে বিষমুক্ত করলা চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন দুই কৃষক। ফলন চমৎকার হলেও বাজারে সাধারণ ও বিষযুক্ত সবজির সমান দামে বিক্রি করতে হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

​উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ধলনগর গ্রামের কৃষক দবির উদ্দিন ফারাজী ও আব্দুল বারী তিন বিঘা জমিতে ‘আলিসা’ জাতের এই করলা চাষ করেছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জমির চারপাশে নীল জালের বেড়া এবং ভেতরে বাঁশ-জালের মাচায় ঝুলছে বিষমুক্ত তরতাজা করলা। পোকা-মাকড় দমনে ক্ষতিকর রাসায়নিকের বদলে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ফেরোমন ফাঁদ, জৈব বালাইনাশক ও জৈব সার ব্যবহার করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে জাল, ফাঁদসহ অন্যান্য উপকরণ ও পরিচর্যা বাবদ তাদের খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার টাকা।

​গত ১০ দিনে এই দুই কৃষক ২ হাজার ২০০ কেজি করলা বিক্রি করে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় করেছেন। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে পাইকারি দর চলছে কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৫৫ টাকা, যা গত বছরের (৭০-৮০ টাকা) তুলনায় প্রায় অর্ধেক। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দেড় মাসে আরও প্রায় আড়াই লাখ টাকা মূল্যের ৪ হাজার কেজির বেশি করলা বিক্রির আশা করছেন তারা। উদ্যোক্তা দবির উদ্দিন ও আব্দুল বারীর অভিযোগ, বাজারে বিষমুক্ত সবজির আলাদা কোনো হাট বা কর্নার না থাকায় সাধারণ সবজির দরেই তাদের ফসল বিক্রি করতে হচ্ছে। ক্রেতারা স্বাস্থ্যকর সবজির আলাদা মূল্যায়ন না করায় ন্যায্য দাম মিলছে না।

​উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছর কুমারখালীতে প্রায় ৫২ হেক্টর জমিতে করলার আবাদ হয়েছে, যেখান থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ৫০০ টন করলা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. বিল্টু হোসেন ও কৃষি কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন জানান, গ্যাপ পদ্ধতিতে উৎপাদিত সবজি স্বাস্থ্যের জন্য শতভাগ নিরাপদ এবং কৃষকদের এ বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বিষমুক্ত সবজির আলাদা হাটের দাবির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার আশ্বাস দিয়েছেন, ব্যাপক উৎপাদন নিশ্চিত করা গেলে প্রতিটি হাটে আলাদা কর্নার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

​ইতোমধ্যে ধলনগর গ্রামের উজ্জল চৌধুরী ও মোহন শেখসহ অনেক কৃষক পরিবেশবান্ধব এই চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। দবির ও বারীর প্রত্যাশা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে একদিন তাদের উৎপাদিত বিষমুক্ত করলা নিজস্ব লেবেল নিয়ে ঢাকা ও কুষ্টিয়ার বড় বাজারগুলোতে পৌঁছাবে এবং কৃষকরা তাদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাবেন।