মিলি রহমান।।
গ্যাস্টিক বা অ্যাসিডিটির সমস্যা হলে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ খাওয়া শুরু করেন। সাময়িকভাবে অস্বস্তি কমলেও নিয়মিত বা দীর্ঘদিন এসব ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে ,প্রয়োজন ছাড়া দীর্ঘদিন ওষুধ খেলে নানা ঝুঁকি হতে পারে।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ লে. কর্নেল নাসির উদ্দিন আহমদ জানান,গ্যাসের ওষুধ দীর্ঘদিন খেলে শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে সেগুলো নিন্মরূপ—
হাড় দুর্বল হতে পারে
দীর্ঘদিন গ্যাস্টিকের ওষুধ খেলে শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ কমে যেতে পারে। এক গবেষণায় দুই সপ্তাহ গ্যাস্টিকের ওষুধ খাওয়ার ফলে অন্ত্রে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত ক্যালসিয়াম শোষণ করে নিতে পারে। এতে হাড় দূর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে হাড় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকতে পারে।
কিডনি রোগের ঝুঁকি
গ্যাস্টিকের ওষুধ দীর্ঘদিন খাওয়ার কারণে অ্যাকুইট ইন্টারেস্টেসিয়াল নেফ্রাইটিস নামক কিডনিতে প্রভাব পড়তে পারে। ওষুধ খাওয়ার ১৮ মাসে মধ্যে এটি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ থেকে ক্ষুধামন্দা ভাব, জ্বর ও বমির সঙ্গে রক্তক্ষরণের ঝুঁকিও থাকে।
কোষ্ঠকাঠিন্য
গ্যাস্টিকের ওষুধ খাওয়া ফলে শরীরের গ্যাস্টিন নামক হরমোনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এ কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। দীর্ঘদিন এ সমস্যা থাকলে পরবর্তীতে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
নিউমোনিয়ার ঝুঁকি
দীর্ঘদিন গ্যাস্টিকের ওষুধ খেলে পাকস্থলী অম্লীয় পরিবেশে পরিবর্তন আসে। এতে সহজে বংশ বিস্তার করতে পারে জীবাণু। হেলিকোব্রাক্টর পাইলোরি নামক এক ধরণের ব্যাকটেরিয়া এসব পরিবেশে বংশ বিস্তার করে। যা পরবর্তীতে ফুসফুস পর্যন্ত বংশ বিস্তার করতে পারে।
যা করবেন
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্যাস্টিকের ওষুধ খাওয়া যাবে না। চিকিৎসক ওষুধ দিলে তা কত দিন এবং কীভাবে খেতে হবে, তা মেনে চলতে হবে। গ্যাস বা অ্যাসিডিটি কমাতে জীবনযাপনেও কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। অতিরিক্ত তেল, মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা, ধূমপান থেকে দূরে থাকা, খাবার খাওয়ার পর পরই না শোয়া এবং পর্যাপ্ত পরিমান পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।










































