স্পোর্টস ডেস্ক।।
ফ্রান্সের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আলোচনায় রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। যদিও এই প্রতিবদনের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লা পারিসিয়ান’-এর প্রকাশিত একটি তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড এমন একটি অপরাধী চক্রের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুদের তালিকায় ছিলেন, যারা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অপহরণ এবং আক্রমণের পরিকল্পনা করছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
ধারণা করা হচ্ছে যে এই অপরাধী চক্রটির নেতৃত্বে ছিলেন ১৮ বছর বয়সী ক্লেমেন্ট এল., যিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। গত ২১ আগস্ট নানতেরে এলাকায় একটি সংগঠিত চুরির ঘটনায় এক সহযোগীর সাথে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন যে ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে বেশ কিছু বাড়িতে অনুপ্রবেশ এবং অপহরণের ঘটনার সাথে এই চক্রটি জড়িত ছিল।
মামলাটি একটি নতুন মোড় নেয় যখন কর্তৃপক্ষ কারাগার থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করে এবং সেখানে ২৬ জন সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকা খুঁজে পায়। এই তালিকায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী এবং সঙ্গীত জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি ফুটবল মহাতারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের নামও ছিল।
লা পারিসিয়ানের মতে, সেই কিশোর অপরাধী কারাগারের ভেতর থেকে বাইরের দুনিয়ায় যোগাযোগের জন্য ‘লেস্টার জেড’ ছদ্মনাম ব্যবহার করত। জব্দ করা দুটি ফোনের তথ্য পরীক্ষা করার পর এটি তদন্তের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সূত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডিভাইসগুলো থেকে উদ্ধার করা তথ্যে বেশ কিছু সম্ভাব্য ব্যক্তিকে নিয়ে ভয়ঙ্কর পরিকল্পনার বিষয় বেরিয়ে এসেছে। ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব ছাড়াও সেই তালিকায় একজন জনপ্রিয় র্যাপার এবং এমবাপ্পের নাম ছিল। তবে এই অপহরণের পরিকল্পনাগুলো কতদূর এগিয়েছিল তা এখনো নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে রিয়াল মাদ্রিদ তারকাকে লক্ষ্য করে এই চক্রান্তটি বাস্তবে কার্যকর করা হয়েছে। এই চক্রের সন্দেহভাজন কার্যক্রম নিয়ে যে বিস্তৃত তদন্ত চলছে, তার অংশ হিসেবেই ফরাসি অধিনায়কের নাম উঠে এসেছে।
তবে প্রধান সন্দেহভাজন ব্যক্তি তাকে এই অপারেশনের মূল পরিকল্পনাকারী বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। লা পারিসিয়ানের মতে, তিনি অভিযোগের গুরুত্ব স্বীকার করলেও দাবি করেছেন যে তার ভূমিকা ছিল কেবল একজন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে।
সেই তরুণের ভাষ্য অনুযায়ী, এই চক্রের অন্য একজন মূল নেতা ছিলেন যিনি পুরো অপারেশনটি পরিচালনা করতেন এবং যারা মাঠ পর্যায়ে অপরাধগুলো করত তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠাতেন।
ফরাসি বিচার বিভাগ এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে কীভাবে এই অপরাধী চক্রটি পরিচালিত হতো, কোন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের পথে ছিল এবং প্রতিটি সন্দেহভাজন ব্যক্তির অপরাধের মাত্রা ঠিক কতটুকু।











































