Home আঞ্চলিক এক চিকিৎসকে টিকিয়ে রাখা বার্ন ইউনিট: খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে রোগীদের চরম ভোগান্তি

এক চিকিৎসকে টিকিয়ে রাখা বার্ন ইউনিট: খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে রোগীদের চরম ভোগান্তি

2

স্টাফ রিপোর্টার।।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল “খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতাল’ তবে প্রয়োজনীয় জনবল ও জায়গার অভাবে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে হাসপাতালটির বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট। ৩৫ শয্যার সরকারি অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও জায়গা না থাকায় চালু রয়েছে মাত্র ২০টি বেড। এর চেয়েও বড় শঙ্কার বিষয় হলো—সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অগ্নিদগ্ধ ও জটিল প্লাস্টিক সার্জারির রোগীদের চিকিৎসায় এই ইউনিটে কর্মরত আছেন মাত্র একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

খুলনা নগরীর গোয়ালখালী এলাকায় ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালটিতে বর্তমানে ১১টি বিভাগ চালু রয়েছে। অগ্নিদগ্ধ রোগী ছাড়াও নানা ধরণের শারীরিক বিকৃতি, ডায়াবেটিক ক্ষত ও জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য খুলনা ও আশপাশের একাধিক জেলার রোগীরা প্রতিদিন ছুটে আসেন এখানে। নার্সদের সেবা ও আন্তরিকতা নিয়ে রোগীদের সন্তুষ্টি থাকলেও চিকিৎসক সংকটে সেবা ব্যাহত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

একমাত্র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কোনো কারণে ছুটিতে থাকলে কিংবা কর্মস্থলে উপস্থিত হতে না পারলে পুরো ইউনিটের চিকিৎসা ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। দীর্ঘ চার মাস ধরে চিকিৎসাধীন একাধিক রোগী জানান, চিকিৎসকদের সদিচ্ছা থাকলেও একজন মানুষের পক্ষে এত বিশালসংখ্যক রোগীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা অসম্ভব।

হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের নার্স ইনচার্জ মালতী দাস বলেন, “দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন অগ্নিদগ্ধ রোগীরা আসেন। তবে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ওপর পুরো বিভাগ চলায় তিনি ছুটিতে গেলে সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।”

সার্বিক সংকট বিষয়ে বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, অনুমোদন অনুযায়ী ৩৫টি শয্যা চালুর ক্ষেত্রে প্রধান বাধা স্থান সংকট। পাশাপাশি একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে এত বড় একটি জরুরি বিভাগ সামাল দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। সেবার মান অক্ষুণ্ন রাখতে নতুন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পাশাপাশি পর্যাপ্ত মেডিকেল অফিসার পদায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।