ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি।।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় স্বাস্থ্যসম্মত ও আধুনিক মৎস্য আড়ত নির্মাণের নামে প্রায় ছয় কোটি ১০ লাখ টাকা হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্ট’-এর আওতায় শাহাপুর ও চুকনগর এলাকায় দুটি আধুনিক আড়ত করার পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে পুরোনো আড়ত ঘষামাজা করে পুরো বাজেট তুলে নেওয়া হয়েছে। এ অনিয়মে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সরাসরি যোগসাজশ এবং কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জড়িত থাকার তথ্য সামনে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চুকনগর মৎস্য আড়তের জন্য ৩ কোটি ৬৭ লাখ এবং শাহাপুর আড়তের জন্য ২ কোটি ৪২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরজমিনে দেখা গেছে, চুকনগরে ২৭ লাখ টাকা বরাদ্দের ফ্লোর উঁচুকরণ, প্রায় ২৯ লাখ টাকার বরফকল নির্মাণ এবং প্রায় ২৪ লাখ টাকার ইটিপি স্থাপনের কোনো কাজই করা হয়নি। সীমানা প্রাচীর না বানিয়েই তুলে নেওয়া হয়েছে আড়তের বিল। একইভাবে শাহাপুরে বরফকল ও ওয়াশরুম তৈরি না করেই প্রায় ৬০ লাখ টাকা পকেটে পুরেছে সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় আড়তদারদের অভিযোগ, তাদের দিয়ে শুধু ব্যাংকের চেকে স্বাক্ষর করানো হয়েছে; পুরো প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ ছিল মৎস্য কর্মকর্তা ও তাঁর পছন্দের ঠিকাদারদের হাতে।
প্রকল্প দুর্নীতি ছাড়াও তিনটি নদী-খালে অভয়াশ্রম, বিল নার্সারি ও অফিস মেরামতের ভুয়া ভাউচার বানিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সোয়েল মো. জিল্লুর রহমান রিগানের বিরুদ্ধে। তবে তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, কাজ নিয়মানুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে আড়ত নির্মাণের কাজ পাওয়া ঠিকাদারদের তালিকায় রয়েছেন ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব সরদার আব্দুল মালেক, আটলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মনিমুর রহমান নয়ন। ঠিকাদাররা অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করলেও ইউপি চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন স্বীকার করেন যে বরাদ্দ কম থাকায় বরফকল নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।
সার্বিক বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। তবে সরেজমিনে তদন্ত করে কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









































