Home খেলাধুলা ব্যাটাররা খারাপ করায় পাকিস্তানের বোলিং কোচ ছাঁটাই

ব্যাটাররা খারাপ করায় পাকিস্তানের বোলিং কোচ ছাঁটাই

7

স্পোর্টস ডেস্ক।।

বোলাররা নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছেন, অথচ খেসারত দিতে হচ্ছে তাদেরই কোচকে! খেলার সুযোগই পাননি যে ক্রিকেটাররা, মাঝ সফর থেকে বিদায় করে দেওয়া হলো তাদেরও। ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজ হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) এমন খামখেয়ালি সিদ্ধান্তে এখন টালমাটাল দেশটির ক্রিকেট।

প্রশ্ন উঠছে—ঠিক কোন যুক্তিতে দল পরিচালনা ও দল নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বোর্ড? একযোগে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকে ছাঁটাই করা এবং স্কোয়াডের সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় খেপেছেন পাকিস্তানের সাবেক কিংবদন্তিরা।

চলমান তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম দুটিতেই ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছে পাকিস্তান। তবে দলের ব্যাটাররা একের পর এক ব্যর্থতার পরিচয় দিলেও বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন পেসাররা। লর্ডসে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ টেস্টেই যেমন স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংসে ২৯০ রানে অলআউট করার পথে ৮টি উইকেটই নেন তিন পেসার।

দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডকে ২০৮ রানে গুটিয়ে দিতে তারা শিকার করেন ৯ উইকেট। দুই ইনিংস মিলিয়ে বোলারদের এমন পারফর্ম সত্ত্বেও ম্যাচের পর পেস বোলিং কোচ উমর গুলের পাশাপাশি প্রধান কোচ সরফরাজকে বরখাস্ত করে পিসিবি।

পিসিবির এই বিচিত্র সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রধান কোচ মুদাসসের নজর। তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বোলাররা যদি নিজের কাজটা ঠিকঠাক করে থাকে, তবে উমর গুলকে বলির পাঁঠা বানানো হলো কেন? পাকিস্তান ম্যাচ হারলে মানুষ এতদিন হাসাহাসি করত, কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি তো সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

ইংল্যান্ডের এই দলে বোথাম, ট্রুম্যান বা অ্যান্ডারসনের মতো কোনো বোলার নেই। মাঝারি মানের এক দলের বিপক্ষে আমাদের ব্যাটাররা দিশেহারা। দীর্ঘদিনের এই মিডল অর্ডার ব্যর্থতার সমাধান না করে পিসিবি কোন পথে হাঁটছে, বুঝে ওঠা দায়।’

একইভাবে ক্ষোভ ঝেড়েছেন কিংবদন্তি ব্যাটার মোহাম্মদ ইউসুফও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) তিনি লেখেন, ‘সফরের মাঝপথে হঠাৎ কোচ আর খেলোয়াড়দের ফেরত পাঠানোর পেছনে শুধুই পারফরম্যান্স দায়ী—তা বিশ্বাস করা কঠিন।

আমরা তো আর জাভেদ মিঁয়াদাদ, ইনজামাম বা সাঈদ আনোয়ারদের মতো বদলি তারকাদের সেখানে পাঠাচ্ছি না! এই সিদ্ধান্তগুলো আসলে সেই পুরনো কোন্দল আর চরম অস্থিরতারই বহিঃপ্রকাশ, যা বহু বছর ধরে আমাদের ক্রিকেটকে ধ্বংস করছে।’

১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই পাকিস্তান ক্রিকেটে এই বিশৃঙ্খলা বারবার ফিরে এসেছে। মাঠের বাইরের ঝগড়া-বিবাদ বাদ দিয়ে বোর্ডের নজর এখন পারফরম্যান্সে দেওয়া উচিত। ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে হলে বোর্ডরুমের রাজনীতি বন্ধ করে খেলোয়াড়দের মাঠে মনোযোগী হতে হবে বলে মনে করেন ইউসুফ।