Home Lead ডেঙ্গুর ছোবলে খুলনায় আরও একজনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ২৪৭

ডেঙ্গুর ছোবলে খুলনায় আরও একজনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ২৪৭

13


শামিম শিকদার।।
কোনোভাবেই থামছে না ডেঙ্গুর নির্মম তাণ্ডব। ঘরে ঘরে এখন জ্বর, স্বজনদের চোখের জল আর হাসপাতালের করিডোরে হাহাকার। খুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও একজন অভাগা মানুষ। একের পর এক স্বজনকে হারানোর এই শোক সামলে ওঠার আগেই নতুন করে ২৪৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ঠাঁই নিয়েছেন হাসাপাতালের বিছানায়। থমথমে হাসপাতালগুলোর প্রতিটি কোণে এখন শুধু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার আকুল আকুতি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন বিষাদমাখা এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্বাস্থ্য দপ্তরের বিবরণ অনুযায়ী, নতুন আক্রান্ত ২৪৭ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালের শয্যা আঁকড়ে ধরেছেন ২০০ জন, আর স্বজনদের দুশ্চিন্তার প্রহর কাটছে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বাকি ৪৭ জনের পাশে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ওই ব্যক্ত-যার করুণ বিদায়ে স্তব্ধ হয়ে গেছে একটি পরিবার।


বিভাগের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি করুণ পরিস্থিতি রূপসা বিধৌত খুলনা জেলায়। কেবল এক দিনেই খুলনা শহরের সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে ১১২ জন এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৭ জন নতুন রোগী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে হাসপাতালে শয্যা নিয়েছেন। এ ছাড়া বাগেরহাটে ৩৯ জন, যশোরে ১৭ জন, সাতক্ষীরায় ১২ জন, নড়াইলে ৬ জন, মাগুরায় ৫ জন, কুষ্টিয়ায় ৩ জন এবং চুয়াডাঙ্গায় ১ জন ডেঙ্গু রোগী প্রদীপ নেভার মতো অবস্থা নিয়ে হাসপাতালে দিন গুনছেন।


পরিসংখ্যানের নীরব সংখ্যাগুলো যেন একেকটি পরিবারের কান্না ও চরম উদ্বেগের গল্প। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গোটা বিভাগে ডেঙ্গুর বিষাক্ত ছোবলে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৫৩১ জন মানুষ। আর এরই মধ্যে চিরতরে আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছেন ২১টি তাজা প্রাণ। বহু কষ্টে সুস্থ হয়ে ৫ হাজার ৫৩২ জন বাড়ি ফিরলেও, মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচাতে উন্নত চিকিৎসার আশায় অন্য জায়গায় রেফার করতে হয়েছে ১৫৭ জনকে।


বর্তমানে পুরো বিভাগের হাসপাতালগুলোতে অন্তত ৮২১ জন রোগী মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। প্রিয়জনকে হারানোর এই মিছিলে আর যেন কোনো নতুন নাম যোগ না হয়, সেজন্য প্রতিটি পরিবারকে মশার কামড় থেকে নিজেদের সুরক্ষায় সতর্ক থাকার এবং সামান্য লক্ষণ দেখা দিলেই কালক্ষেপণ না করে হাসপাতালে ছোটার কাতর আবেদন জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।