Home স্বাস্থ্য হলুদ চায়ের যত গুণ

হলুদ চায়ের যত গুণ

3

মিলি রহমান।।

রান্নাঘরের অতি পরিচিত মসলা হলুদ। খাবারে রং ও স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি বহুদিন ধরে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাপদ্ধতিতেও এর ব্যবহার রয়েছে।

হলুদের অন্যতম সক্রিয় উপাদান কারকুমিনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়ে নানা গবেষণা হয়েছে। এই কারণে হলুদ দিয়ে তৈরি চাও অনেকের কাছে জনপ্রিয়।

হলুদ চা মূলত হলুদের গুঁড়া বা হলুদের শেকড় পানিতে ফুটিয়ে তৈরি করা হয়। স্বাদ ও উপকারিতা বাড়াতে এতে আদা, লেবু কিংবা মধু যোগ করা যেতে পারে। তবে হলুদ চা কোনো রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়-এটি একটি স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা যেতে পারে।

রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে

হলুদের কারকুমিনে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এগুলো শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতি থেকে রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে হলুদ গ্রহণ সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

প্রদাহ ও জয়েন্টের অস্বস্তিতে ভূমিকা

শরীরে অতিরিক্ত প্রদাহ বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যসমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। কারকুমিনের প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে এবং এটি কিছু ক্ষেত্রে জয়েন্টের ব্যথা বা অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা থাকলে শুধু হলুদ চায়ের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য সম্ভাব্য উপকার

হলুদের কারকুমিন রক্তের কিছু উপাদান ও প্রদাহের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু গবেষণায় কোলেস্টেরল ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য উপকারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধ বা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে হলুদ চাকে ওষুধের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।

লিভারের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্যের কারণে কারকুমিন লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সম্ভাব্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এ বিষয়ে গবেষণা চলমান রয়েছে। লিভারের কোনো রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বেশি পরিমাণে হলুদ বা হলুদের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়।

ফুসফুসের জন্যও সম্ভাব্য উপকার

কারকুমিনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য শ্বাসতন্ত্রের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য উপকার করতে পারে বলে গবেষণায় আলোচনা হয়েছে। তবে হলুদ চা ফুসফুসের ক্যানসার বা অন্য কোনো ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করে-এমন নিশ্চয়তা নেই।

ক্যানসার প্রতিরোধের দাবি কতটা সত্য?

কারকুমিন নিয়ে গবেষণাগারে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ও বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ার ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের কথা উঠে এসেছে। তবে এসব গবেষণার ফলকে মানুষের ক্ষেত্রে হলুদ চা পান করলেই ক্যানসার প্রতিরোধ হবে—এমন সিদ্ধান্ত হিসেবে নেওয়া যায় না। ক্যানসার প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও চিকিৎসকের পরামর্শই গুরুত্বপূর্ণ।

অতিরিক্ত হলুদ চায়ে সতর্কতা

খাবারে স্বাভাবিক পরিমাণে হলুদ সাধারণত নিরাপদ। তবে বেশি পরিমাণে হলুদ বা হলুদ চা পান করলে কিছু মানুষের বমি বমি ভাব, পেটের অস্বস্তি কিংবা ডায়রিয়া হতে পারে। হলুদে অ্যালার্জি থাকলে এটি এড়িয়ে চলা উচিত। বিশেষ করে নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করলে বা কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগ থাকলে বেশি পরিমাণে হলুদ, বিশেষ করে কারকুমিনের সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

সব মিলিয়ে, হলুদ চা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হতে পারে। তবে কোনো একটি খাবার বা পানীয়কে রোগ প্রতিরোধ কিংবা চিকিৎসার একমাত্র উপায় হিসেবে দেখা উচিত নয়।