Home স্বাস্থ্য কনুই-হাঁটুর কালচে ও খসখসে ভাব দূর করতে ঘরোয়া ৩ উপায়

কনুই-হাঁটুর কালচে ও খসখসে ভাব দূর করতে ঘরোয়া ৩ উপায়

0

মিলি রহমান।।

মুখ বা হাতের ত্বকের যত্ন নিয়ে যতটা ভাবা হয়, কনুই ও হাঁটুর ক্ষেত্রে অনেক সময়ই ততটা নজর দেওয়া হয় না। ফলে শরীরের অন্য অংশের তুলনায় এসব জায়গার ত্বক ধীরে ধীরে শুষ্ক, মোটা ও কালচে হয়ে যেতে পারে। পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, ত্বকের নিয়মিত যত্নের অভাব কিংবা অতিরিক্ত ঘর্ষণের কারণেও কনুই ও হাঁটুর ত্বকে এমন পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তবে সব ক্ষেত্রে বিষয়টি শুধু রূপচর্চার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলেও শরীরের কিছু অংশের ত্বক শুষ্ক বা কালচে হওয়ার মতো পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তাই হঠাৎ করে ত্বকের রং বা গঠন বদলে গেলে কারণটি খেয়াল করা জরুরি। আর যদি সমস্যাটি সাধারণ শুষ্কতা বা মৃত কোষ জমে যাওয়ার কারণে হয়ে থাকে, তাহলে ঘরে থাকা কিছু উপাদান দিয়ে ত্বকের যত্ন নিতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, ঘরোয়া উপায়ে এক-দুই দিনেই ত্বক পুরোপুরি বদলে যাবে এমনটা আশা করা ঠিক নয়। নিয়মিত পরিচর্যার পাশাপাশি ধৈর্যও প্রয়োজন।

বেসন ও টক দই

ত্বকের যত্নে বেসনের ব্যবহার বেশ পুরোনো। এর সঙ্গে টক দই যোগ করলে তৈরি করা যায় সহজ একটি ঘরোয়া মাস্ক। টক দইয়ে থাকা ল্যাক্টিক অ্যাসিড ত্বককে নরম ও মসৃণ রাখতে সহায়তা করতে পারে।

যা লাগবে: ২ টেবিল চামচ বেসন,প্রয়োজনমতো টক দই

যেভাবে তৈরি করবেন: একটি বাটিতে বেসন ও টক দই নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে ঘন, মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন।

যেভাবে ব্যবহার করবেন: মিশ্রণটি কনুই ও হাঁটুর কালচে বা খসখসে জায়গায় লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সবশেষে ভালো একটি ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।

ওটমিল ও মধুর প্যাক

শুষ্ক ত্বকে যত্ন নেওয়ার আরেকটি সহজ উপায় হতে পারে ওটমিল ও মধুর মিশ্রণ। ওটমিল ত্বকের ওপর জমে থাকা মৃত কোষ পরিষ্কার করতে সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে মধু ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।

যা লাগবে

১ টেবিল চামচ মিহি গুঁড়ো করা ওটমিল

১ টেবিল চামচ মধু

সামান্য পানি

যেভাবে তৈরি করবেন: ওটমিল, মধু ও অল্প পানি একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন।

যেভাবে ব্যবহার করবেন: হাঁটু ও কনুইয়ে প্যাকটি লাগিয়ে প্রায় ১০ মিনিট রাখুন। এরপর পানি দিয়ে হাত ভিজিয়ে খুব আলতোভাবে কয়েক সেকেন্ড ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। জোরে ঘষার প্রয়োজন নেই।

অ্যালোভেরা ও হলুদ

ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে অ্যালোভেরা বেশ পরিচিত একটি উপাদান। এর সঙ্গে অল্প হলুদ মিশিয়ে তৈরি করা যেতে পারে আরেকটি সহজ প্যাক।

যা লাগবে

১ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল

এক চিমটি হলুদ গুঁড়া

যেভাবে তৈরি করবেন: অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে সামান্য হলুদ মিশিয়ে নিন।

যেভাবে ব্যবহার করবেন: মিশ্রণটি কনুই ও হাঁটুর ওপর পাতলা করে লাগিয়ে প্রায় ১০ মিনিট রেখে দিন। এরপর পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।

ঘরোয়া উপায় মানেই ঝুঁকিমুক্ত নয়

প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করলেই যে সবার ত্বকে তা মানিয়ে যাবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। বেসন, মধু, অ্যালোভেরা কিংবা অন্য কোনো উপাদান থেকেও কারও কারও অ্যালার্জি বা ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে। তাই প্রথমবার ব্যবহারের আগে হাতের ভেতরের অংশ বা কানের পাশের ছোট জায়গায় অল্প পরিমাণ লাগিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কালচে ভাব দূর করতে গিয়ে কনুই বা হাঁটু জোরে ঘষাঘষি করবেন না। এতে ত্বকে জ্বালা ও প্রদাহ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি উল্টো পিগমেন্টেশন আরও বাড়তে পারে।

নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং ত্বকের প্রতি একটু বাড়তি যত্ন এই তিনটি অভ্যাসই কনুই ও হাঁটুর শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে কালচে ভাব থাকলে বা এর সঙ্গে অন্য কোনো ত্বকের পরিবর্তন দেখা দিলে শুধু ঘরোয়া পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।