Home Lead খুলনায় এডিসের প্রজননক্ষেত্র ম্যানহোল: যৌথ তদারকিতে কেসিসি ও ওয়াসা

খুলনায় এডিসের প্রজননক্ষেত্র ম্যানহোল: যৌথ তদারকিতে কেসিসি ও ওয়াসা

2

স্টাফ রিপোর্টার।।

নগরীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতির মুখে খুলনা ওয়াসা কর্তৃক নির্মিত ম্যানহোল ও ড্রেনেজ পাইপলাইনে এডিস মশার বংশ বিস্তারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সরাসরি মাঠে নেমেছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং খুলনা ওয়াসা’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে দুই সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকার ম্যানহোল ও পাইপলাইন সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন তাঁরা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি গত ৭ সেপ্টেম্বর কেসিসির বাজেট অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা ম্যানহোলগুলোকে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করে জোর তাগিদ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দুই সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা দ্রুত পরিস্থিতি তদারকিতে নামেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু স্বীকার করেন, দেশের যে কয়েকটি শহরে ডেঙ্গুর মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, তার মধ্যে খুলনা অন্যতম। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী মে মাস থেকে আমরা সর্বশক্তি নিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাজ করছি। আশানুরূপ সফলতা না আসলেও কাজের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় কোনো কমতি ছিল না।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মঙ্গলবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৫টি সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন, যেখানে কেসিসির গত দুই মাসের কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী খুলনার স্থানীয় সব সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশেষ সভা করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে এবং খুলনাকে ডেঙ্গুমুক্ত করতে নতুন উদ্যমে সমন্বিত অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানান কেসিসি প্রশাসক। এজন্য বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নগর ভবনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, আনসার, স্কাউটস ও সংশ্লিষ্ট সব সরকারি বিভাগের সমন্বয়ে এক প্রস্তুতিমূলক সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভা শেষে ডেঙ্গু চিকিৎসায় ও প্রতিরোধে যৌথ সামরিক-বেসামরিক সমন্বিত টিম মাঠে নামবে।

এদিকে নাগরিকদের সন্দেহ দূর করতে কেসিসি এলাকাধীন প্রায় ১৮ হাজার ম্যানহোলে মশার লার্ভা ও উড়ন্ত মশা ধ্বংসকারী কেমিক্যাল স্প্রে করার বিশেষ কার্যক্রম আজ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। প্রতিদিনের মশক নিধন, ঝোপঝাড় পরিষ্কার, কচুরিপানা ও ড্রেনের পলি অপসারণের পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে স্প্রে করার জন্য অতিরিক্ত ৫ জন করে লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসক প্রতিটি বাড়ির আঙিনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান এবং এতে কেসিসি সর্বাত্মক সহায়তা করবে বলে আশ্বাস দেন।