ঢাকা অফিস
দেশে হু হু করে বাড়ছে ডেঙ্গু। আগস্ট থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। সঙ্গে মৃত্যুর মিছিলও দীর্ঘ হচ্ছে। গত ৯ দিনে মৃত্যু হয়েছে ৩৬ জনের। এর পেছনে আবহাওয়ার পরিবর্তন, মশার অতিরিক্ত ঘনত্ব এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক ঘাটতি দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী অক্টোবর-নভেম্বর পর্যন্ত এই প্রকোপ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। রোগতত্ত্ববিদদের পূর্বাভাস বলছে- চলতি বছর ডেঙ্গু আরও বাড়বে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ এবং অক্টোবরের শুরুর দিকে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জন মারা গেছেন। একই সময়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৬৩ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরে একদিনে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ৯ জনের মৃত্যুর রেকর্ড হয় মঙ্গলবার। এদিন হাসপাতালে ভর্তিও হয়েছিলেন রেকর্ড ১ হাজার ৫৭১ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে এ পর্যন্ত মোট ১৩৩ জন মারা গেছেন। আর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৬ হাজার ৯৩৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে- চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ৯ দিনে ১১ হাজার ৯২ রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যুর পরিসংখ্যানও ঊর্ধ্বমুখী। সেপ্টেম্বর মাসের ৯ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৬ জনের। যেখানে আগস্ট মাসে মৃত্যু হয়েছিল ৪৩ জন। আক্রান্ত ছিল ২০ হাজার ৫৩৬ জন।
এদিকে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ অথবা অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিপজ্জনক রূপ নিয়ে সংক্রমণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। ইতিমধ্যে দেশব্যাপী ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।
গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আঁচল ফাউন্ডেশন ও হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় তিন মাসব্যাপী জনসচেতনতামূলক অভিযান শুরু করা হবে। এতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। ঘরবাড়ি ও কর্মস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জনসচেতনতা ও লার্ভা ধ্বংসের কার্যক্রম চালাবে। ডা. এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের দুটি লক্ষ্য- আক্রান্তের সংখ্যা কমানো এবং মৃত্যুর হার কমানো। এ জন্য ইতিমধ্যে প্রায় তিন হাজার চিকিৎসককে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা বিষয়ে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
রোগতত্ত্ব, রোগী নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এর উপদেষ্টা ও সাবেক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। দরকার মশা নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি পর্যায় পর্যন্ত কাজ করা। কমিউনিটি পর্যায়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা ব্যবস্থা করতে হবে।
নতুন সেরোটাইপে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে: ২০২৬ সালের পরিস্থিতিতে আরেকটি বিষয়ও বিশেষভাবে উদ্বেগ তৈরি করছে- ডেঙ্গু ভাইরাসের সেরোটাইপের পরিবর্তন। সাম্প্রতিক গবেষণা ও বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণে দেশে ডেন-৩-এর উপস্থিতি বেড়েছে বলে উঠে এসেছে। ঢাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ৭১ জনের নমুনা বিশ্লেষণে ৯১ দশমিক ৫ শতাংশে ডেন-৩ এবং ৮ দশমিক ৫ শতাংশে ডেন-২ পাওয়া গেছে। একজন ব্যক্তি আগে এক ধরনের ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকলে পরবর্তী সময়ে ভিন্ন সেরোটাইপে সংক্রমিত হলে কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হলেই গুরুতর রোগ হবে- এমন সরল সিদ্ধান্তও বৈজ্ঞানিকভাবে ঠিক নয়।











































