Home স্বাস্থ্য কফি শুধু পানীয় নয়, রূপচর্চাতেও কেন জনপ্রিয়

কফি শুধু পানীয় নয়, রূপচর্চাতেও কেন জনপ্রিয়

0


মিলি রহমান।।

কফি মানেই অনেকের কাছে দিনের শুরুতে এক কাপ উষ্ণ পানীয়, কাজের ফাঁকে সতেজতা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা। তবে কফির ব্যবহার এখন শুধু পানীয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ত্বক ও চুলের যত্নেও কফি ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে ঘরোয়া রূপচর্চায় কফি দিয়ে তৈরি স্ক্রাব, ফেস মাস্ক ও হেয়ার প্যাকের ব্যবহার বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে।

কফিতে থাকা ক্যাফেইন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কারণে রূপচর্চায় এর প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কফির গুঁড়া ত্বকের মৃত কোষ পরিষ্কার করতে স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এতে সাময়িকভাবে ত্বক মসৃণ ও সতেজ দেখাতে পারে। তবে স্ক্রাব হিসেবে কফির গুঁড়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঘষাঘষি না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। সংবেদনশীল ত্বকে বেশি ঘষলে জ্বালা, শুষ্কতা বা লালচে ভাব তৈরি হতে পারে।

চোখের নিচে কফির ব্যবহার

চোখের নিচে কালচে ভাব ও ফোলাভাব কমানোর জন্যও কফি ব্যবহারের কথা প্রচলিত। ক্যাফেইন রক্তনালির ওপর সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে বলে চোখের নিচের ফোলাভাব কিছুটা কম দেখাতে পারে। এ কারণেই বিভিন্ন প্রসাধনীতে ক্যাফেইন ব্যবহার করা হয়। তবে কফি ব্যবহার করলেই স্থায়ীভাবে ডার্ক সার্কেল দূর হবে—এমনটা বলা যায় না। ঘুমের অভাব, বংশগত বৈশিষ্ট্য, অ্যালার্জি, বয়স ও ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার কারণেও চোখের নিচে কালচে ভাব দেখা দিতে পারে। তাই দীর্ঘদিনের সমস্যা থাকলে শুধু ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

চুলের যত্নেও কফি

চুলের যত্নেও কফির ব্যবহার নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। কেউ কেউ শ্যাম্পুর সঙ্গে বা হেয়ার প্যাক হিসেবে কফি ব্যবহার করেন। কফিতে থাকা ক্যাফেইন চুলের ফলিকলের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু গবেষণায় আলোচিত হলেও ঘরোয়া কফি ব্যবহারে চুল পড়া বন্ধ বা নতুন চুল গজানোর নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। চুল পড়ার পেছনে হরমোন, পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক চাপ, বংশগত কারণসহ বিভিন্ন বিষয় কাজ করতে পারে। তাই চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিলে শুধু কফির ওপর নির্ভর না করে সমস্যার কারণ জানা প্রয়োজন।

বডি স্ক্রাবেও কফি

কফির গুঁড়া দিয়ে তৈরি বডি স্ক্রাবও বেশ জনপ্রিয়। ত্বকের ওপর জমে থাকা মৃত কোষ দূর করতে এটি ব্যবহার করা হয়। কফির দানাদার গঠন ত্বককে এক্সফোলিয়েট করতে সাহায্য করতে পারে। ফলে ব্যবহারের পর ত্বক সাময়িকভাবে মসৃণ ও পরিষ্কার মনে হতে পারে। তবে ত্বকে বেশি চাপ দিয়ে ঘষলে উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে ব্রণপ্রবণ, সংবেদনশীল বা ক্ষতযুক্ত ত্বকে স্ক্রাব ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। মুখের ত্বক শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় বেশি সংবেদনশীল হওয়ায় সেখানে মোটা দানার কফি দিয়ে ঘষাঘষি না করাই ভালো।

ফেস মাস্কেও কফি

ঘরোয়া রূপচর্চায় মধু, দই বা অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে কফি মিশিয়ে ফেস মাস্ক ব্যবহারের চলও রয়েছে। এর উদ্দেশ্য সাধারণত ত্বককে পরিষ্কার ও সতেজ রাখা। তবে বিভিন্ন উপাদান একসঙ্গে মেশালেই যে সবার ত্বকে একই ফল পাওয়া যাবে, এমন নয়। বিশেষ করে ব্রণ, অ্যালার্জি বা সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা কোনো রেসিপি সরাসরি অনুসরণ না করাই ভালো। ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপাদান নির্বাচন করাটাই গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয়তার কারণ কী?

কফি দিয়ে রূপচর্চার জনপ্রিয়তার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, কফি সহজলভ্য এবং অনেকের ঘরেই এটি থাকে। দ্বিতীয়ত, কফির গুঁড়া বিভিন্ন ঘরোয়া প্যাক বা স্ক্রাবের সঙ্গে সহজেই ব্যবহার করা যায়। তৃতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ড্রাই বা ঘরোয়া বিউটি রেসিপি ছড়িয়ে পড়ায় কফি-ভিত্তিক রূপচর্চার প্রতি আগ্রহও বেড়েছে। এর পাশাপাশি বাজারেও এখন কফি ও ক্যাফেইনযুক্ত বিভিন্ন প্রসাধনী পাওয়া যাচ্ছে। ফেস স্ক্রাব, ফেস মাস্ক, আই ক্রিম, বডি স্ক্রাব ও শ্যাম্পুসহ বিভিন্ন পণ্যে ক্যাফেইনকে উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে পানীয় হিসেবে পরিচিত কফি ধীরে ধীরে বিউটি ও পার্সোনাল কেয়ারের জগতেও আলাদা জায়গা তৈরি করেছে।

ঘরোয়া ব্যবহারে সতর্কতা জরুরি

প্রাকৃতিক বা ঘরোয়া উপাদান মানেই সবার ত্বকের জন্য নিরাপদ—এমন ধারণা ঠিক নয়। কফি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ত্বকের ধরন বিবেচনা করা প্রয়োজন। নতুন কোনো উপাদান মুখে ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া যেতে পারে। জ্বালা, চুলকানি, র‍্যাশ বা লালচে ভাব দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এ ছাড়া চোখের চারপাশের মতো সংবেদনশীল জায়গায় সরাসরি কফির গুঁড়া ব্যবহার করার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। ত্বকে কোনো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা থাকলে ঘরোয়া উপায় ব্যবহার করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার বদলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

সৌন্দর্যচর্চায় কফি, তবে কতটা?

কফি রূপচর্চায় ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু এটিকে কোনো ত্বক বা চুলের সমস্যার চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। কফির কিছু উপাদান ত্বককে সাময়িকভাবে সতেজ দেখাতে বা এক্সফোলিয়েশনে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ত্বক বা চুলের সমস্যার সমাধানে এর কার্যকারিতা নিয়ে অতিরিক্ত দাবি করা ঠিক নয়। সুস্থ ত্বক ও চুলের জন্য নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহারের গুরুত্ব বেশি। কফি সেখানে হতে পারে রূপচর্চার একটি অতিরিক্ত উপাদান, মূল সমাধান নয়।

পানীয় হিসেবে কফির জনপ্রিয়তার পাশাপাশি রূপচর্চায় এর ব্যবহারও মানুষের আগ্রহ বাড়াচ্ছে। ঘরোয়া স্ক্রাব থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রসাধনীতে কফি ও ক্যাফেইনের ব্যবহার এখন বেশ পরিচিত। তবে সৌন্দর্যচর্চায় কোনো উপাদান জনপ্রিয় হলেই সেটি সবার জন্য উপকারী হবে, এমনটা নয়।

কফি দিয়ে রূপচর্চা করতে চাইলে নিজের ত্বক ও চুলের ধরন বুঝে ব্যবহার করা জরুরি। ট্রেন্ড অনুসরণ করার পাশাপাশি উপাদানটির কার্যকারিতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকাই পারে রূপচর্চাকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করে তুলতে।