Home আঞ্চলিক শতবর্ষী বিদ্যালয়ের পাশে ময়লার ভাগাড়, ছয় মাস ধরে বন্ধ শ্রেণিকক্ষ

শতবর্ষী বিদ্যালয়ের পাশে ময়লার ভাগাড়, ছয় মাস ধরে বন্ধ শ্রেণিকক্ষ

4

পাইকগাছা প্রতিনিধি।।


খুলনার পাইকগাছার কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ভবনের গা ঘেঁষে তৈরি হয়েছে ময়লার ভাগাড়। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ।

আবর্জনা আর বিদ্যালয়ের পাশের ড্রেনের নোংরা পানির কারণে বেড়েছে মশা-মাছির উপদ্রব। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের দ্বিতল ভবনে প্রায় ছয় মাস ধরে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ময়লার স্তূপটি কয়েকবার অপসারণ করা হলেও কিছুদিন পর আবার সেখানে আবর্জনা ফেলা হয়। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কয়েকবার জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।


১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষী কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির স্কুল অ্যান্ড কলেজে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮০৩। এর পাশেই রয়েছে কপিলমুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ৫৩৫ জন। দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারী ও এলাকাবাসীর চলাচলের পথের পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে এই ময়লার ভাগাড়।


বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব পাশের দ্বিতল একাডেমিক ভবনের কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে আগে নিয়মিত পাঠদান হতো। কিন্তু ভবনের পেছনে ময়লার স্তূপ জমে দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের অন্য ভবনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সহচরী বিদ্যামন্দিরের একাডেমিক ভবন ও শহীদ মিনারের পেছনে একটি খালি জায়গায় ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে আছে। জায়গাটি একটি বহুতল ভবনের পেছনে। ওই ভবনের নিচতলায় কপিলমুনি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ময়লার ভাগাড়ের পাশ দিয়ে কপিলমুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চলাচল করে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুজন বলেন, ‘স্কুলের এই পাশ দিয়ে যাতায়াতের সময় নাক-মুখ চেপে ধরতে হয়। বাচ্চারা কীভাবে এই দুর্গন্ধের মধ্যে ক্লাস করে, তা বোঝা কঠিন।’

অভিভাবকেরা জানান, বিদ্যালয়ের টিফিনের সময় শিক্ষার্থীরা ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধের কারণে স্বাভাবিক খেলাধুলা করতে পারছে না। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সমস্যার পাশাপাশি চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে।

সহচরী বিদ্যামন্দিরের সপ্তম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, কয়েক মাস আগেও তারা পূর্ব পাশের ভবনে ক্লাস করতেন। দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার পর তাদের অন্য ভবনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পার্শ্ববর্তী কপিলমুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে। এতে জায়গাটি ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ময়লার দুর্গন্ধ আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে।’

বিদ্যালয়ের নবগঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির অভিভাবক সদস্য এস এম মুস্তাফিজুর রহমান পারভেজ বলেন, ‘কমিটির সদস্য হিসেবে বিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রথম দিনই বিষয়টি নজরে আসে। প্রধান শিক্ষক, অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে সরেজমিনে জায়গাটি পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।’

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার মণ্ডল বলেন, ‘ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রবের কারণে পূর্ব পাশের ভবনে প্রায় ছয় মাস ধরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আমরা নিজেদের উদ্যোগে কয়েকবার ময়লা অপসারণ করেছি। কিন্তু কিছুদিন পর আবার সেখানে ময়লা ফেলা হয়। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘ভবনের কয়েকটি জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশের একটি ভবনের পাইপ ফেটে নোংরা পানি বিদ্যালয়ের দেয়ালের পাশে পড়ছে। এসব বিষয় নিয়েও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কার্যকর সমাধান হয়নি।’

পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে। শিগগিরই সমস্যাটির সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’