Home আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভে উত্তপ্ত ভারত, পাঁচ দফা দাবি রাহুল গান্ধীর

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে উত্তপ্ত ভারত, পাঁচ দফা দাবি রাহুল গান্ধীর

3


আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

ভারতে নিট প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষার্থী বিক্ষোভ দমনে পুলিশের অভিযানের জেরে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবার বিরোধীদের বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি (ধর্না) এবং কংগ্রেস নেতাদের আটককে কেন্দ্র করে সারাদিনব্যাপী নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর মধ্যেই লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী কেন্দ্র সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করে বুধবারও সংসদে এ ইস্যুতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন।

ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডীটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবন লোক কল্যাণ মার্গের বাইরে কংগ্রেসের অবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন রাহুল গান্ধী। এ সময় পুলিশ তাকে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাসহ কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করে। পরে রাত প্রায় ৯টার দিকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

আটকের পর রাহুল গান্ধীকে ছত্রশাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে মন্দির মার্গ থানায় নেওয়া হয়। পরে সাবেক কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী থানায় গিয়ে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে দেখা করেন।

আটক অবস্থায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী কেন্দ্র সরকারের কাছে পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হলো- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, সোমবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার, শিক্ষার্থী বিক্ষোভ দমনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া, বিষয়টি নিয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা এবং দ্রুত শিক্ষা ও পরীক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার।

রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, সরকার শিক্ষার্থীদের শোষণ করছে এবং নিট প্রশ্নফাঁসের দায়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ করা উচিত।

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা কেন ভেঙে পড়ছে? কেন বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে? কেন ভারতে শিক্ষা এত ব্যয়বহুল? কেন সন্তানদের পড়াশোনা করাতে পরিবারগুলোকে আর্থিকভাবে ধ্বংস হতে হচ্ছে? এগুলো একেবারেই যৌক্তিক প্রশ্ন, এবং এসব প্রশ্ন তোলায় কোনো ভুল নেই।’

তিনি আরও জানান, পুরো বিরোধী জোট চায় বুধবার লোকসভা ও রাজ্যসভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হোক।

আন্দোলনে সমর্থন জানানো সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাহুল বলেন, “শিক্ষার্থীদের অধিকারের জন্য যারা একসঙ্গে লড়াই করছেন, তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।”

এদিকে, কংগ্রেসের ধর্নাস্থলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তার দাবিগুলো শোনেন।

পরে জিতেন্দ্র সিং অভিযোগ করেন, সংসদে আলোচনার দাবি থেকে সরে এসে এখন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছেন রাহুল গান্ধী।

তিনি বলেন, ‘রাহুল গান্ধীর মতো একজন জ্যেষ্ঠ নেতার নিজের অবস্থান থেকে সরে আসা দুর্ভাগ্যজনক এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থী।’

তিনি আরও দাবি করেন, নিট এবং সংশ্লিষ্ট আন্দোলনের সব বিষয় নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে, কিন্তু রাহুল গান্ধীর আচরণ গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও মঙ্গলবার রাতে রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার অভিযোগ তোলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘সরকার যখন সব বিষয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনায় প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে, তখনও কংগ্রেস গণতান্ত্রিক বিতর্কের বদলে রাজনৈতিক নাটক বেছে নিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান নয়, বরং রাজনৈতিক শিরোনাম তৈরি করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাহুল গান্ধীর কাছে এটি শিক্ষার্থীদের বিষয় নয়; বরং আলোচনা ও সমাধানের পথ খোলা থাকার পরও নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাত তৈরির চেষ্টা।’

নিটসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত এ ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ এখন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।