Home আঞ্চলিক ৪০০ বোতল ফেনসিডিল গায়েবের অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

৪০০ বোতল ফেনসিডিল গায়েবের অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

2


কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ৪০০ বোতল ফেনসিডিল গায়েব করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে তিনি মাদক বহনকারীদের ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত এসআই ফিরোজ দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের তেকালা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৯ জুলাই) রাত পৌনে ১২টার দিকে আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ এলাকা থেকে কয়েকজন মাদক বহনকারী ৪০০ বোতল ফেনসিডিল নিয়ে অন্যত্র পাচারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তারা গরুড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ এলাকায় পৌঁছালে এসআই ফিরোজের নেতৃত্বে একটি টহল দলের সামনে পড়েন। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক বহনকারীরা ফেনসিডিলের বস্তা ফেলে পালানোর চেষ্টা করলে তাদের আটক করে বেধড়ক মারপিট করা হয়। পরে মামলা না দেওয়ার শর্তে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে জানা যায়। এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ফেনসিডিল দৌলতপুর থানায় জব্দ দেখানো হয়নি এবং এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি বলে থানা সূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, উদ্ধার হওয়া ৪০০ বোতল ফেনসিডিল ধর্মদহ এলাকার রাজ্জাকের ছেলে জাহাঙ্গীর (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদক বহনকারী জানান, ওইদিন আটজন ব্যক্তি ফেনসিডিল বহন করছিল। এ সময় এসআই ফিরোজের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেন। পরে মারধর করে মামলা না দেওয়ার শর্তে ছেড়ে দেন। তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া ফেনসিডিল পুলিশ নিয়ে গেছে এবং তাদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক খুচরা মাদক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের বিট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এসআই ফিরোজ নিয়মিত অর্থের বিনিময়ে সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক পরিবহনে সহযোগিতা করেন। তার দাবি, সাপ্তাহিক ও মাসিক চুক্তির ভিত্তিতে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়। এর আগেও এসআই ফিরোজের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই ফিরোজ। তিনি বলেন, ‘ওই দিন কোনো মাদক উদ্ধার করিনি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’ দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, ‘৪০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’