ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
আগামী বিজয় দিবসের আগেই ঝিনাইদহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে| শহরে প্রবেশের সময় মানুষ যেন বুঝতে পারেন, তাঁরা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের জেলায় প্রবেশ করছেন—এমন লক্ষ্য সামনে রেখে ভাস্কর্য স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে|
বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপন-সংক্রান্ত বিশেষ প্রস্তুতিমূলক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়| জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন| সভায় ভাস্কর্য স্থাপনের উপযুক্ত স্থান নির্ধারণে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক কামালুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে ১৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়| কমিটিতে মুক্তিযোদ্ধা ও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের রাখা হয়েছে| জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পৌর প্রশাসক কমিটিতে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন|
সভায় জানানো হয়, শহরের বাস টার্মিনালসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় থাকা ভাস্কর্যটি চারটি মহাসড়কের মাঝামাঝি স্থানে হওয়ায় এক পাশ থেকে অন্য পাশের মানুষ সহজে দেখতে পান না| এ কারণে সেখানে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও রয়েছে| সড়কটি ছয় লেনে সম্প্রসারণের কাজ শুরু হলে ভাস্কর্যটি অপসারণ করতে হবে| ফলে নতুন করে উপযুক্ত স্থানে পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে|
সভায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা তাদের মতামত তুলে ধরেন| পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সড়ক বিভাগ ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন| এ সময় পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্যের ছয়টি নমুনাও উপস্থাপন করা হয়| সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের ফেজ-১-এর উপপ্রকল্প ব্যবস্থাপক নিলন আলী বলেন, বর্তমান ভাস্কর্যটি যে স্থানে রয়েছে, সেটি মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতাভুক্ত| সড়ক প্রশস্ত করার সময় এটি অপসারণ করতে হবে| বর্তমান নকশা অনুযায়ী ভাস্কর্যটি রেখে সড়ক সম্প্রসারণ করা সম্ভব নয়| বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান বলেন, সড়ক প্রশস্ত করা হলেও এমনভাবে নকশা করা উচিত, যাতে ভাস্কর্যটি থাকে এবং যান চলাচলেও কোনো সমস্যা না হয়|
ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন ও গণমাধ্যমকর্মী শাহজাহান নবীন বলেন, বর্তমান ভাস্কর্যটি দীর্ঘদিন অর্ধনির্মিত ও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল| সেখানে কখনো শ্রদ্ধা নিবেদনের ব্যবস্থাও করা হয়নি| তাই এমন একটি উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করা দরকার, যেখানে ভাস্কর্যটি মানুষের চোখে পড়ে এবং নতুন প্রজন্ম বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানতে পারে|
সভায় জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এ মজিদ বলেন, স্থান নির্ধারণ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণ শুরু হবে| জেলা পরিষদ থেকে এ কাজে আর্থিকসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে|
জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, মহাসড়ক ছয় লেনে সম্প্রসারণ হলেও বাস টার্মিনালসংলগ্ন স্থানটি ‘হামিদুর রহমান চত্বর’ নামেই পরিচিত থাকবে| ১৪ সদস্যের কমিটিকে দ্রুত ˆবঠক করে উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে| কমিটির সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর নির্ধারিত স্থানে যথাযোগ্য মর্যাদায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে| আশা করা হচ্ছে, নির্মাণ শেষে আগামী বিজয় দিবসে সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা যাবে|
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের দিকে সদর পৌরসভা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণে ৩২ লাখ টাকার প্রকল্প নেয়| ২০১৬ সালে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়| ২০১৯ সালের মার্চে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও পৌর মেয়র বাস টার্মিনালের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মাঝখানে ভাস্কর্যটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন| পরে নির্মাণকাজ অসমাপ্ত অবস্থায় থেমে যায়| এরপর দীর্ঘদিন অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল ভাস্কর্যটি| সম্প্রতি জেলা পরিষদ স্থাপনাটি অপসারণের কাজ শুরু করলেও নানা সমালোচনার মুখে তা স্থগিত রয়েছে|











































