ডুমুরিয়া প্রতিনিধি।।
ব্যাংক হিসাবে জমা আছে মাত্র ৩ হাজার ৭২৯ টাকা! চরম এই অর্থ সংকটের মুখে পড়ে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় আটকে গেছে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প। নিয়ম মেনে টেন্ডার ও লটারি সম্পন্ন হলেও তহবিলে টাকা না থাকায় ঠিকাদারদের কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) দিতে পারছে না উপজেলা প্রশাসন। ফলে একদিকে থমকে গেছে গ্রামীণ জনপদের উন্নয়ন, অন্যদিকে অর্থ ঢেলে কাজ পাওয়া ঠিকাদাররা পড়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়।
উপজেলা প্রশাসন ও প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩০ জুলাইয়ের কার্যবিবরণী অনুযায়ী ডুমুরিয়া উপজেলা উন্নয়ন তহবিলে জমা ছিল ৭ কোটি ১৫ লাখ ২৭ হাজার ৬২২ টাকা। তবে গত ২১ মে অনুষ্ঠিত সভায় জানা যায়, অবিশ্বাস্যভাবে সেই তহবিল কমে ঠেকেছে মাত্র ৩ হাজার ৭২৯ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র ১০ মাসের ব্যবধানে উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রায় ৭ কোটি ১৫ লাখ ২৩ হাজার ৮৯৩ টাকা ব্যয় হয়ে গেছে।
তহবিলের এই ভয়াবহ শূন্যতার কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে গৃহীত প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার উন্নয়নকাজ পুরোপুরি থমকে গেছে।
ইতোমধ্যে সাতটি প্যাকেজের আওতায় গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, গভীর নলকূপ স্থাপন, মসজিদ-মন্দির-মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংস্কার এবং পেভার ব্লক বসানোর মতো ৫৪টি জনকল্যাণমূলক কাজের দরপত্র আহ্বান ও লটারি শেষ হয়েছে। প্রায় ৮০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এই কাজগুলোর ঠিকাদার নির্বাচিত হওয়ার ২ মাস পার হলেও কোনো কার্যাদেশ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়া আরও ৯০ লাখ টাকার প্রকল্প দরপত্র আহ্বানের অপেক্ষায় আটকে আছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি শেখ শাহিনুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিটি টেন্ডারে অংশ নিতে ঠিকাদারদের প্রায় সাড়ে সাত হাজার টাকা খরচ হয়েছে। লটারিতে কাজ পাওয়ার পরও কার্যাদেশ মিলছে না। বিষয়টি নিয়ে ইউএনও স্যারের সঙ্গে আলোচনা করেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।”
আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হলেও তহবিলের অভাবে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে বলে জানান ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ দারুল হুদা। তিনি বলেন, “বিধি মেনে টেন্ডার ও লটারি সম্পন্ন হলেও তহবিলে টাকা না থাকায় কার্যাদেশ দেওয়া যাচ্ছে না।”
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার জানান, “তহবিলে অর্থ না থাকায় এখন কার্যাদেশ দিলে কাজ শেষে ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। এ বিষয়টি ঠিকাদারদের সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্ট করা হয়েছে।”
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম সরদারও নিশ্চিত করেছেন যে, প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান না হওয়া পর্যন্ত ডুমুরিয়া উপজেলার প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
উপজেলা উন্নয়ন তহবিলের এই নজিরবিহীন ঘাটতিতে শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোগত সংস্কার কাজ ভেস্তে যেতে বসেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম হতাশা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।











































