কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এবার প্রার্থীরা যতোটা না আলোচনায়, তার চেয়েও বেশি আলোচনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে তিনি পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কথা বলছেন বলেই এত অভিযোগ, আলোচনা-সমালোচনা। এর চেয়েও বড় বিষয় হলো: নির্বাচন কমিশন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়ে তাকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিলেও তিনি এলাকা ছাড়েননি। বরং এলাকায় ‘নির্বাচন ছাড়াও আরও কাজ আছে’ বলে তিনি এলাকায় অবস্থান করেছেন।
জানা যায়, বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলছেন, এই সংসদ সদস্যের ভূমিকা নেতিবাচক। আর নৌকার প্রার্থী আশা করছেন, সংসদ সদস্যের আশীর্বাদে বিজয়ী হবেন তিনি।
ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ‘তিনি কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বসে পরোক্ষভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, চিকিৎসক, দোকানমালিকসহ বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির মানুষজনকে নৌকার পক্ষে কাজ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন।’
নির্বাচন কমিশন এমপি বাহারকে যে চিঠি দিয়েছেন সেই চিঠিতে বলা হয়: ‘১৫ জুন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ করার জন্য নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬-এর ২২ বিধি অনুযায়ী সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন না।
বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সম্প্রচারমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে দেখা যাচ্ছে, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন অত্যন্ত কৌশলে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করছেন, যা সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালার লঙ্ঘন। এ ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে তদন্ত করালে লিখিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, যা মোটেই কাম্য নয়।’
তবে এমপি বাহার এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমি আচরণবিধি লঙ্ঘন করি নি। আমি কোনো নির্বাচনী সভায় অংশগ্রহণ করি না। নির্বাচন ছাড়াও আমার অনেক কাজ আছে। সেগুলো আমাকে করতে হয়। আমি সে কাজ করি।’ এছাড়া তিনি আদালতেও গিয়েছেন।
জাতীয় নির্বাচনের আগে নবগঠিত নির্বাচন কমিশনের জন্য কুমিল্লা সিটি নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় পাস করার জন্য তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু এমপি বাহার ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের অসহায়ত্ব প্রকাশ পেয়েছে। সিইসি বলেছেন: সংসদ সদস্যের জন্য ইসির অনুরোধই ‘যথেষ্ট’। এরপরও না মানলে এবং মামলার ফলাফল না পেলে করার কিছু থাকে না ইসি’র। কুমিল্লার বিষয়ে আচরণবিধিতে বলা রয়েছে- সরকারি সুবিধাভোগী ব্যক্তিরা কারও এলাকায় অবস্থান করে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। কুমিল্লার সংসদ সদস্য অনেকটা তেমনটাই করেছেন বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। আমরা তাকে এখান থেকে চিঠি দিয়েছি। বলেছি- স্থান ত্যাগ করার জন্যে। উনি ত্যাগ করেননি। আমরা শুনেছি- উনি আদালতে মামলা করেছেন। মামলার ফলাফলটা না পেলে আমরা যখন কাউকে রিকোয়েস্ট করি, আমাদের এমন কোনো ক্ষমতা নেই জোর করে একজন সংসদ সদস্যকে বের করে দিতে।
সিইসি জানান: উনাকে বলাটাই এনাফ। উনাকে আমরা যদি বলে থাকি- কাইন্ডলি আপনি যদি আচরণবিধিতে এটা আছে আপনি যদি সরে থাকেন, তাহলে নির্বাচনটা ভালো হয়। সেটা আমরা প্রকাশ্যে দিয়েছি। এটাই এনাফ একজন সংসদ সদস্যের জন্য সেটাকে অনার করা। যদি সেটি উনি অনার না করেন, সেক্ষেত্রে আমাদের তেমন করার কিছু নেই।
এমন প্রেক্ষাপট চলতে থাকলে নির্বাচন কমিশন আস্থার সংকটে পড়বে বলে আমাদের শঙ্কা। এটা ভবিষ্যতেও বিভিন্ন জায়গায় উদাহরণ তৈরি করবে। এটা কখনোই কাম্য নয়। সেজন্য সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে কমিশনকে শক্তিশালী এবং আস্থার জায়গায় ফিরিয়ে আনতে যত দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, ততই মঙ্গল।











































