আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
সম্প্রতি ওমান উপসাগরে জব্দ হওয়া ইরানের পণ্যবাহী জাহাজের সঙ্গে চীনের সংশ্লিষ্টতা আছে বলে অভিযোগ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) তিনি দাবি করেন, ’ওই জাহাজে ইরানকে পাঠানো চীনের ‘উপহার’ ছিল। তবে বুধবার (২২ এপ্রিল) এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে বেইজিং।”
ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ইরানের পতাকাবাহী জাহাজটিতে চীনের পাঠানো উপহার ছিল। বিষয়টি ভালো কিছু নয়।’ তাঁর আগে একই অভিযোগ করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত নিকি হ্যালি। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেন, চীন থেকে রওনা দেওয়া জাহাজটিতে ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহারের রাসায়নিক ছিল।
বুধবার (২২ এপ্রিল) এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে হ্যালির অভিযোগ অস্বীকার করেন চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন।
তিনি বলেন, ’এটি একটি বিদেশি পণ্যবাহী জাহাজ। এর সঙ্গে চীনকে জড়িয়ে সন্দেহ করার মতো কিছু নেই।’
এক সপ্তাহ আগে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, ’চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, বেইজিং ইরানে কোনো অস্ত্র সরবরাহ করবে না।’
জব্দকৃত জাহাজ নিয়ে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ’এখন তিনি কিছুটা অবাক হয়েছেন।’
গত রবিবার (১৯ এপ্রিল) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ওমান উপসাগরে তুসকা নামে একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ জব্দ করেছে। এর আগে নৌযানটিতে তিন দফায় গুলি করা হয়।
জাহাজটিতে কী ছিল
সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো গত সোমবার রয়টার্সকে জানায়, জাহাজটিতে ‘ডুয়াল-ইউজ’ এর উপযোগী সরঞ্জাম আছে বলে ধারণা করছে ওয়াশিংটন। অর্থ্যাৎ, এমন পণ্য যা সামরিকসহ একাধিক কাজে ব্যবহার করা যায়।
নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই জাহাজটিতে এর আগেও এমন পণ্য পরিবহন করা হয়েছিল। সূত্রগুলো পণ্যের বিস্তারিত জানাতে চায়নি। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ধাতব বস্তু, পাইপ, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশসহ এমন কিছু পণ্যের তালিকা তৈরি করেছে যা শিল্প কারখানার পাশাপাশি সামরিক কাজেও ব্যবহার হতে পারে।
তথ্য বিশ্লেষণের সংস্থা সিনম্যাক্স জানিয়েছে, জাহাজটি গত ২৫ মার্চ চীনের সাংহাইয়ের উত্তরের তাইকাং বন্দরে নোঙর করা অবস্থায় ছিল। ২৯-৩০ মার্চ দক্ষিণাঞ্চলীয় গাওলান বন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে কনটেইনার বোঝাই করে রওনা দেওয়ার পর গত ১১-১২ এপ্রিল মালয়েশিয়ায় যাত্রাবিরতি দেয়। সেখান থেকে আরও কনটেইনার সংগ্রহ করে। গত রোববার জাহাজটি ওমান উপসাগরে পৌঁছায়।
জাহাজটি জব্দের ঘটনাকে বেআইনি ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে তেহরান। অবিলম্বে এতে থাকা নাবিকদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনাটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। এর পরিপ্রেক্ষিতে যা ঘটবে সেটির জন্য ওয়াশিংটন দায়ী থাকবে।











































