মাগুরা প্রতিনিধি
মাগুরায় শিশু রোগ পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে| প্রতিদিন নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৫০ থেকে ৬০-এর বেশি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে, অথচ শিশু ওয়ার্ডে বেড রয়েছে মাত্র ৪৫টি| ফলে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে চরম হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ|
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বেলা ১১টায় মাগুরা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে সরেজমিনে দেখা গেছে, রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা| বেডের অভাবে অনেক শিশুকে মেঝেতে শুইয়ে চিকিৎসা দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা| যা জন¯^াস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ|
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৭৬ জন শিশু এবং হামে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৭ জন| বর্তমানে হাসপাতালে মোট রোগী ৭৩০ জন, যার মধ্যে শিশু রোগীই ২৯৯ জন-যা মোট রোগীর প্রায় অর্ধেক|
২৫০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত হলেও বাস্তবে কার্যকর বেড রয়েছে মাত্র ১৫০টি| এর মধ্যে প্রায় ১০০ বেড ব্যবহার করছে মাগুরা মেডিকেল কলেজের কার্যক্রমে| ফলে সাধারণ রোগীদের জন্য বেড সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে| এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের ¯^জনদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে|
গত ১৯ দিনে ঠান্ডা, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ হাজার ২০২ শিশু| বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব এবং দেরিতে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতার কারণে রোগের জটিলতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে|
তবে হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীর ¯^জনরা| তাদের অভিযোগ, ওয়ার্ডে ফ্যান নেই, বিদ্যুৎও ঠিকমতো থাকে না| গরমে বাচ্চারা কষ্টে ছটফট করছে| চিকিৎসা তো দূরের কথা, ন্যূনতম পরিবেশটুকুও নেই| এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত বেড সংখ্যা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ এবং সেবার মান উন্নয়নের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা| অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা ¯^জনদের|
রোগী ¯^জন রাবেয়া খাতুন বলেন, হামের চিকিৎসা ভালো হচ্ছে| ডাক্তার এবং নার্স নিয়মিত খোঁজ খবর রাখছেন তবে বেড কম থাকায় মেঝেতে থাকতে হচ্ছে| বেড বাড়ানো হলে চিকিৎসার মান বাড়বে|
আরেক রোগীর মা মোছা. ছালেহা বলেন, বাচ্চাদের চিকিৎসা করাতে এসে বাচ্চাদের আরও বেশি অসুস্থ করে ফেলছি| পর্যাপ্ত চিকিৎসা বাচ্চারা পাচ্ছে না| সরকারের কাছে আকুল আবেদন চিকিৎসার মান বাড়ানোর প্রয়োজন|
মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. এহসানুল হক মাসুম বলেন, হামের রোগী তুলনামূলক কম হলেও ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার রোগী আশঙ্কাজনকভাবে বেশি| হামের রোগীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে|








































