স্পোর্টস ডেস্ক।।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কানাডা দলের ফিক্সিং কেলেঙ্কারি নিয়ে তদন্ত শুরু করার পর একের পর এক হাড়হিম করা তথ্য বেরিয়ে আসছে। অভিযোগ উঠেছে, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ‘স্পট-ফিক্সিং’-এর নেপথ্যে সরাসরি হাত ছিল ভারতের কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের।
আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট (এসিইউ) বর্তমানে কানাডার অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়ার ভূমিকা নিয়ে গভীর তদন্ত চালাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচে বাজওয়ার করা একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং অস্বাভাবিক ওভারের পর থেকেই সন্দেহের দানা বাঁধে।
সন্দেহভাজন স্পট-ফিক্সিংয়ের অভিযোগে বাজওয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি তার মোবাইল ফোনও তল্লাশি করেছে আইসিসি।
কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (সিবিসি)-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং, যাকে কানাডা সরকার একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করেছে, এই পুরো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত।
পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালা হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত এই গ্যাংটিই মূলত হুমকি দিয়ে দিলপ্রীত বাজওয়াকে কানাডা দলের অধিনায়কত্ব পেতে সহায়তা করেছিল।
সিবিসি-র তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই মাসে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারেতে একটি রেস্তোরাঁয় কানাডার এক তারকা ক্রিকেটারকে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে হুমকি দেওয়া হয়।
তাকে বলা হয়, যদি তিনি দিলপ্রীত বাজওয়া এবং অন্য এক তরুণ খেলোয়াড়ের পদোন্নতি সমর্থন না করেন, তবে তার এবং তার পরিবারের পরিণতি ভয়াবহ হবে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, এই অপরাধী চক্রটি ক্রিকেট প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে এবং জাতীয় দলে নিজেদের পছন্দমতো লোক বসাতে মরিয়া ছিল। এমনকি বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে অত্যন্ত বিতর্কিতভাবে বাজওয়াকে অধিনায়ক ঘোষণা করা হয়। ‘নোহ’ ছদ্মনামের এক ব্যক্তি সিবিসি-কে জানিয়েছেন, বিরোধিতা করার ৪০ মিনিটের মাথায় তার ফোনে একটি ছবিসহ হুমকি দেওয়া হয়, যা তাকে আতঙ্কিত করে তোলে।
এই কেলেঙ্কারিতে ক্রিকেট কানাডার বর্তমান সভাপতি আরভিন্দর খোসার নামও জড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, যারা হুমকি দিয়েছিল তাদের সাথে খোসার যোগাযোগ রয়েছে এবং বাজওয়াকে অধিনায়ক করার প্রস্তাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন। তবে খোসা এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, সাবেক কোচ খুররম চৌহানকেও অতীতে বোর্ডের নির্দিষ্ট কিছু সদস্য ফিক্সিং করার জন্য চাপ দিয়েছিলেন।
লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের ওপর চাঁদাবাজি ও গুলি চালানোর মতো একাধিক সহিংস ঘটনায় জড়িত থাকার কারণে সম্প্রতি কানাডা সরকার কর্তৃক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। ক্রিকেটের মতো একটি ভদ্রলোকের খেলায় এই ধরনের অপরাধী চক্রের অনুপ্রবেশ বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।










































