Home আলোচিত সংবাদ প্রশাসক মঞ্জু, প্রত্যাশার নতুন অধ্যায়

প্রশাসক মঞ্জু, প্রত্যাশার নতুন অধ্যায়

20

বিশেষ সম্পাদকীয়



খুলনা সিটি করপোরেশনে আবারও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রত্যাবর্তন শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়—এটি নগরবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, এক নতুন আশার সূচনা। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে সরকারি কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে চলা কেসিসি আজ আবার একজন রাজনৈতিক নেতার হাতে ন্যস্ত হতে যাচ্ছে। এই প্রত্যাবর্তনকে অনেকেই দেখছেন গণমানুষের কাছে জবাবদিহিমূলক নেতৃত্বের পুনরুজ্জীবন হিসেবে।
স্বাধীনতার মাস মার্চের প্রথম দিনে দায়িত্ব নিচ্ছেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সময়টা তাই প্রতীকীও বটে—স্বাধীনতার চেতনা, দায়িত্ববোধ আর জনগণের আকাঙ্ক্ষার এক অনুরণন যেন এই দায়িত্ব গ্রহণের মুহূর্তে মিশে আছে। কিন্তু এই আনুষ্ঠানিকতার আড়ালে যে বাস্তবতা দাঁড়িয়ে আছে, তা সহজ নয়। প্রত্যাশার পাহাড় যেন তার কাঁধে। খুলনার নাগরিকরা ক্লান্ত ভাঙাচোরা সড়কে, বছরের পর বছর জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে, মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ সন্ধ্যায়, বর্জ্যের স্তুপ আর বিশৃঙ্খল ট্রাফিকে। এসব সমস্যা নতুন নয়—কিন্তু সমাধানের গতি ছিল ধীর, কখনোবা অদৃশ্য। ফলে নতুন প্রশাসকের কাছে প্রত্যাশা শুধু প্রতিশ্রুতির নয়, দৃশ্যমান পরিবর্তনের। নগরবাসী আর আশ্বাস শুনতে চায় না; তারা দেখতে চায় কাজের স্পষ্ট ছাপ, পরিবর্তনের বাস্তব প্রমাণ।
একই সঙ্গে রাজনৈতিক বাস্তবতাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। দলীয় ঐক্য, কর্মীদের আস্থা, অভ্যন্তরীণ সমন্বয়—এসবই একটি নগর প্রশাসনকে গতিশীল করে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মঞ্জু যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন, তা এখন পরীক্ষার মুখে। বিরোধী সময়ে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা এক জিনিস, কিন্তু প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়ে প্রতিদিনের সমস্যার সমাধান করা আরেক বাস্তবতা। এখানেই নেতৃত্বের প্রকৃত মূল্যায়ন।
নগরবাসী আশা করছে—দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, সেবার মানোন্নয়ন, পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং সর্বোপরি নাগরিক মর্যাদা নিশ্চিত করার এক আন্তরিক প্রয়াস। একজন প্রশাসক যখন রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোয় কাজ করেন, তখন তার প্রতিটি সিদ্ধান্তে থাকা উচিত জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার স্পষ্ট ছাপ।
আজ খুলনার আকাশে যে প্রত্যাশার আলো জ্বলছে, তা নিছক আবেগ নয়—এটি প্রয়োজনের তাগিদ, বেঁচে থাকার দাবি। মানুষ চায় তাদের শহর হোক বাসযোগ্য, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন। তারা চায় নেতৃত্বের শক্তি কথায় নয়, কাজে প্রতিফলিত হোক।
নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সামনে তাই সময়ের এক কঠিন কিন্তু সম্ভাবনাময় অধ্যায় উন্মুক্ত হলো। এই অধ্যায়ে সাফল্য মানে শুধু একজন নেতার অর্জন নয়—এটি হবে পুরো নগরবাসীর জয়। আর ব্যর্থতা? তা হবে মানুষের ভরসার আরেকটি ভাঙন। এখন সময় প্রমাণের। নগরবাসীর স্বপ্নভরা চোখ আজ তার দিকে নিবদ্ধ। ইতিহাস হয়তো বড় কোনো ভাষণ মনে রাখে না—মনে রাখে দৃশ্যমান পরিবর্তন, মানুষের মুখে ফেরা স্বস্তির হাসি। খুলনা অপেক্ষায় আছে সেই হাসির জন্য।