স্পোর্টস ডেস্ক।।
বিশ্বের ‘সবচেয়ে বড় আসর’ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হলেই ভারতজুড়ে চলে উৎসবের আমেজ। পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা কিংবা গোয়ার অলিগলি সেজে ওঠে প্রিয় দলগুলোর পতাকায়।
কিন্তু সেই উৎসবের আড়ালে চাপা পড়ে থাকে এক বড় প্রশ্ন বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ ভারত কেন আজও ফুটবলের মহাযজ্ঞে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারেনি?
ভারতের ফুটবল নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তাদের এই দীর্ঘ বঞ্চনার আসল চিত্র। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই ব্যর্থতার কারণ কেবল প্রতিভা বা জনবলের অভাব নয়, বরং সঠিক পরিকল্পনার অভাব।
ভারতের কিংবদন্তি ফুটবলার বাইচুং বুটিয়া মনে করেন, বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। তিনি বলেন, ‘এশিয়ার জন্য এখন বিশ্বকাপে অনেক বেশি সুযোগ রয়েছে। তবে ভারতের প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই গ্রাসরুট প্রোগ্রাম। আমাদের এখনই সেই অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। ‘
ফুটবলকে বাদ দিয়ে ভারতের মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর সন্তানদের ক্রিকেটমুখী করার প্রবণতাকেও বড় বাধা হিসেবে দেখছেন প্রবীণ ফুটবলার শ্যাম থাপা। তার মতে, আইপিএলের মতো টুর্নামেন্ট থেকে দ্রুত অর্থ ও খ্যাতির হাতছানিতে অভিভাবকরা ফুটবল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ফুটবলে যে সম্মান ও ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ আছে, তা প্রচারের অভাব রয়েছে বলেও তিনি মনে করেন।
পরিসংখ্যানও বলছে, ভারত অনেকটা পিছিয়ে। বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৩৬ নম্বরে থাকা ভারতের তুলনায় অনেক পিছিয়ে থেকেও জর্ডান কিংবা উজবেকিস্তানের মতো দেশ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিচ্ছে। অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের (AIFF) প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং ‘ভিশন ২০৪৭’এর মতো প্রকল্পের বাস্তবায়ন না হওয়া নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে ফুটবল মহলে।
তবে আশার কথা শোনান সুনীল ছেত্রী। তার মতে, রাতারাতি বিশ্বকাপের স্বপ্ন না দেখে বরং নিয়মিত এশিয়ান কাপে খেলা এবং এশিয়ার সেরা ২০টি দেশের তালিকায় উঠে আসাই এখন ভারতের লক্ষ্য হওয়া উচিত। এছাড়া, ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশি পাসপোর্টধারী খেলোয়াড়দের দেশের হয়ে খেলার সুযোগ দেওয়ার নীতিগত পরিবর্তনের বিষয়টিও এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
কুরাসাওয়ের মতো ছোট দেশ যদি বিশ্বমঞ্চে পা রাখতে পারে, তবে বিশাল ভারতের কেন এই আক্ষেপ? এই প্রশ্নই এখন ভারত ছাড়িয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর ফুটবলপ্রেমীদের মনেও কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।










































