আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিরুদ্ধে ইরানকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ২০১৫ সালে ‘জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন’ বা জেসিপিওএ চুক্তির সময় বিপুল অর্থ দেওয়া হয়েছিল।
আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলনে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, জেসিপিওএ চুক্তির সময় তিনি (ওবামা) তাদের (ইরান) নগদ ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার দিয়েছিলেন। ব্যাংক থেকে আনা ডলার একটি বোয়িং ৭৫৭ উড়োজাহাজে করে ইরানে পাঠানো হয়েছিল।
ট্রাম্প বলেন, ‘তারা উড়োজাহাজের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। আমার কাছে এর ছবি আছে। তারা বলেছিল, হায় খোদা, দেখুন, তিনি (ওবামা) আমাদের কত অর্থ দিচ্ছেন।’ ট্রাম্পের ভাষ্য, ‘ওবামা এভাবে ঘুষ দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি তা করিনি।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘জানেন ইরানিরা কী করেছিল? তারা ওবামাকে নিয়ে হাসাহাসি করেছিল। বলেছিল, তিনি খুবই বোকা…।’
২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্ক আছে। ওবামা প্রশাসন সে সময় বলেছিল, ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ছিল ইরানের দীর্ঘদিনের আর্থিক দাবির নিষ্পত্তি।
অর্থ স্থানান্তরের ঘটনাটি নিয়ে ২০১৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল সিবিএস নিউজ। এতে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তৎকালীন মুখপাত্র বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। সে কারণে নগদ অর্থ পরিশোধ করতে হয়।
সিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক দশক ধরে চলা একটি সালিশি মামলার নিষ্পত্তির অর্থ। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৪০০ মিলিয়ন ডলার ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি ইরানে পাঠানো হয়। একইদিনে তেহরান চারজন মার্কিন বন্দিকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছিল।
৩০০ বিলিয়নের তহবিল
ইরানের সঙ্গে নতুন সমঝোতা চুক্তিতে তহবিল থাকা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। যেটির পরিমাণ প্রায় ৩০০ বিলিয়ন। এ নিয়ে বুধবার ট্রাম্প বলেন, এগুলো মিথ্যা খবর। আমরা ১০ সেন্টও দিচ্ছি না। আমরা কোনো বিনিয়োগ করছি না এবং আমাদের কোনো তহবিলও নেই।
ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানে বিনিয়োগের জন্য আমি উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর কোনো চাপ দিচ্ছি না। তারা যদি বিনিয়োগ করে, তাহলে ভালো। তবে আমার ধারণা, ইরানিদের আচরণ কেমন হয় তা না দেখা পর্যন্ত তারা এমন কিছু করবে না।’










































