খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
চলতি বছরের সেপ্টে¤^র বা অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন| এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির|
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এ তথ্য জানান বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর| তবে নির্বাচনের সুস্পষ্ট তারিখ ঘোষণার আগে থেকেই নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতারা| ইতোমধ্যে ভোটারদের দোয়া চেয়ে ব্যানার-ফেস্টুন পোস্টারে ছেয়ে গেছে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকা| তৃণমূলে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন নেতারা| একই এলাকায় রয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক নেতা| সবাই নিজ¯^ অবস্থান থেকে প্রচারণা চালাচ্ছেন|
জানা গেছে, নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় প্রার্থী বাছাইয়ে নানা কৌশল অবল¤^ন করবে বিএনপি| ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি নিয়েছে কেন্দ্রীয় সংগঠন| নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ| কাউকে কোনও ধরনের অন্যায় হস্তক্ষেপের সুযোগ দেওয়া হবে না| অগ্রাধিকার দেওয়া হবে ক্লিন ইমেজধারীদের| পরিস্থিতি অনুযায়ী যুগপতের শরিকদেরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হতে পারে|
তবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেওয়া হবে কিনা, সেটিও খোলাসা করেননি ক্ষমতাসীন দলের নেতারা|
অবশেষে সম্ভাব্য রোডম্যাপ: তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের চার মাসের মাথায় দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে বসানো হয়েছে| তখন বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন ওঠে—আসলে কী স্থানীয় নির্বাচন হবে? নাকি প্রশাসক দিয়ে বাকি মেয়াদ শেষ করা হবে? এ নিয়ে সব মহল থেকেই অনিশ্চয়তা ˆতরি হয়| তবে অবশেষে নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে মুখ খোলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর|
চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের পর সেপ্টে¤^র বা অক্টোবর : থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে জানান তিনি| বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে|
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান|
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি: এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন| এ বিধিমালা পাস হলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ যেকোনও দলের কর্মী-সমর্থকরা অংশ নিতে পারবেন বলে জানা গেছে|
আলোচনা আছে, তাহলে কি আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনও বাধা নেই? এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন এক ধরনের দৃষ্টিভঙ্গির কথা বললেও বিএনপির দলগত সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি|
গত ১০ জুন এই বিধিমালা প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ও নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, কোনও দল বাদ দেওয়ার মতো কোনও বিধান আচরণবিধিতে রাখা হয়নি| নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য যে কেউ অংশ নিতে পারবেন| এ বিষয়ে গত ১৫ জুন জাতীয় সংসদে বিএনপি বা সরকারের মনোভাব জানতে চান ¯^তন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা|
জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে আমি আশ্বস্ত করতে পারি যে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে| আমরা যে সিদ্ধান্তে একমত হয়েছি, সেই সিদ্ধান্তে যথাযসময়ে নির্বাচন করতে পারবো| তবে আওয়ামী লীগের নেতারা অংশগ্রহণ করতে পারবেন কিনা, প্রশ্নের উত্তর তিনি পাশ কাটিয়ে যান|
ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি, গুডবুকে কারা: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি চেয়ারপারসনের এক উপদেষ্টা বলেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন তারা| নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতারা নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন| আবার প্রধান বিরোধী দল জামায়াতের প্রার্থীরাও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারেন, তা মাথায় রেখেই তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন| এ নিয়ে অচিরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হবে| সব বিষয়ে খোঁজ রাখছেন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান| এরইমধ্যে অতীতের পরিক্ষিত নেতারা রয়েছেন দলের গুডবুকে|
এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিএনপির প্রস্তুতি অনেকটাই এগিয়ে| ইতোমধ্যে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে যোগ্য প্রার্থীদের গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে| তবে চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি|’’ তিনি বলেন, ‘‘দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের সমর্থন থাকে|’’ বলেন, ‘‘দলের নিবেদিতপ্রাণ ও ক্লিন ইমেজের নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে| বিএনপি যেহেতু বড় দল, তাই একেকটি এলাকায় একাধিক প্রার্থী থাকেন| তাদের মধ্যে কীভাবে সমš^য় করা যায়, সে কৌশল নিয়েও কাজ করছেন শীর্ষ নেতারা|’’
সবার চোখ ঢাকার দুই সিটিতে: স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে সারা দেশেই সরব ক্ষমতাসীন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা| তবে এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র পদের প্রার্থী হচ্ছেন কারা?
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন| এরইমধ্যে তার পক্ষে নগরীতে ব্যাপক পোস্টারিং হয়েছে| আরও আলোচনায় আছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, অবিভক্ত ঢাকা সিটির সাবেক মেয়র ছাদেক হোসেন খোকার ছেলে ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন|
অপরদিকে ঢাকা উত্তর সিটিতে এবারও আলোচনায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল| ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ছিলেন তিনি| আরও রয়েছেন বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন| ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি| তবে এর বাইরেও বিকল্প প্রার্থী থাকতে পারে বলে জানা গেছে|
সিটিতে বড় পদে শরিকদের ছাড়ের সম্ভাবনা কম; বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয়তেও যুগপতের শরিকদের গুরুত্ব দিতে চায় দলটি| তবে সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে জোট সঙ্গীদের ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা নেই| উপজেলা, পৌরসভা ও ইউপিতে প্রার্থীর অবস্থান অনুযায়ী শরিকদের ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা আছে|
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘‘জনবান্ধব ও ত্যাগীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে| কোনও বিতর্কিতদের সুযোগ দেওয়া হবে না| এক্ষেত্রে যোগ্যতাকেই মাপকাঠি হিসেবে দেখা হবে| তিনি বলেন, যুগপতের শরিকরা যদি কোনও জায়গায় যোগ্য হয়, সেটা পরিস্থিতি অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে| আর দলের নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে| তথ্য সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন










































