বাগেরহাট প্রতিনিধি।।
‘বাগেরহাটে কচুয়ায় মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণের চেষ্টা,মামলা না করতে বিএনপি নেতার চাপ’ শিরোনামে খবরের কাগজ এ সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরে মোবাইল ফোনে খবরের কাগজের বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি রিফাত আল মাহমুদকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন কচুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরদার জাহিদ।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে খবরের কাগজে সংবাদটি প্রকাশিত হয়।
এ সংবাদ প্রকাশের পরে রাত ৮টা ৪৪ মিনিটে সরদার জাহিদ তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন থেকে রিফাত আল মাহমুদকে ফোন দিয়ে অশ্লীল কথা বলেন এবং ‘সাংবাদিকতা ছুটিয়ে দেব’, বলে হুমকি দেন।
উল্লেখ্য, বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার পদ্মনগর এলাকায় আট বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে স্থানীয় এক দোকানদারের বিরুদ্ধে। তবে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং থানায় মামলা না করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারটিকে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নাম ব্যবহার করে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ জুন মাদরাসার টিফিন বিরতির সময় শিশুটি খাবার কিনতে স্থানীয় একটি দোকানে যায়। এ সময় দোকানদার হাকিম সরদার তাকে দোকানের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। শিশুটি বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনাটি প্রকাশ করলে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা জিয়াউর রহমান ফকির অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে দোকানদার হাকিম সরদার অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। বিষয়টি জানার পর আমি থানায় মামলা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মাদরাসার শিক্ষক ইমরান সাহেব এবং ডিসি অফিসের কর্মচারী রুস্তম সাহেব আমাকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদ সরদারের নাম বলে মামলা থেকে বিরত থাকতে বলেন। তারা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে মীমাংসার আশ্বাস দেন।’
তিনি আরও জানান, তার মেয়ে স্থানীয় সরদার বজলুর রহমান এতিমখানা ও মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী, যা জাহিদ সরদারের বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, ঘটনাটি নিয়ে থানায় অভিযোগ না করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে জাহিদ সরদারের নাম ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও চাপ দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রুস্তম মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাচ্চাটির বাবার মুখ থেকে আমি বিষয়টি শুনেছি, ঘটনা সত্য হতে পারে। স্থানীয় ইমাম মুফতি সরদার ইমরান এবং মানফুজুল বিষয়টি প্রাথমিকভাবে সালিসের চেষ্টা করছেন। তবে বিষয়টি মীমাংসা হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিযুক্তের দোকানটি বন্ধ রাখতে বলেছেন কচুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরদার জাহিদের বড় ভাই সরদার রেজাউল।’
এদিকে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে কচুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরদার জাহিদ মোবাইল ফোনে বলেন, ’ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। অভিযুক্তের দোকান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। শিশুর পরিবার যদি আইনের আশ্রয় নিতে চায়, তবে আমি তাদের পাশে থাকব। ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটি স্থানীয় নব্য জামায়াতপন্থিদের অপপ্রচার।’
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ’বিষয়টি সম্পর্কে আমরা এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
নির্যাতনের শিকার শিশুটির পরিবার এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ অভিযুক্ত হাকিম সরদারের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।











































