স্পোর্টস ডেস্ক।।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতে আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত বাংলাদেশ। এবার লক্ষ্য তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।
বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামে শুরু হচ্ছে দুই দলের লড়াই। দলের অধিনায়ক লিটন দাসও টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। ২০২১ সালে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সেই সিরিজে স্পিন-সহায়ক উইকেট তৈরি করায় সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল স্বাগতিকদের।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে স্পোর্টিং উইকেটে খেলেই সাফল্য পাচ্ছে বাংলাদেশ। বুধবার (১৭ জুন) থেকে শুরু হওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজও হবে একই ধরনের উইকেটে। এমন কন্ডিশনে জয় পেলে বাংলাদেশের সাফল্যের মুকুটে আরও একটি পালক যোগ হবে।
ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে লিটন বলেন, ‘েআপনি যখন বড় দলের বিপক্ষে ভালো ক্রিকেট খেলবেন, তখন সেটি অবশ্যই আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। শুধু সিরিজ জিতেছি তা নয়, আমরা তিনটি ম্যাচেই ভালো ক্রিকেট খেলেছি। নতুন সিরিজ শুরুর আগে এটি বড় ইতিবাচক দিক। অবশ্যই ফরম্যাট ভিন্ন, আমাদের দলও কিছুটা ভিন্ন, তাদের দলও ভিন্ন। তবে ভালো বিষয় হলো, আমাদের বেশিরভাগ ক্রিকেটার ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে। সবার মধ্যেই আত্মবিশ্বাস আছে। এখন নির্দিষ্ট দিনে ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।’
ওয়ানডে সিরিজ হেরে গেলেও টি-টোয়েন্টি দলে একাধিক পরিবর্তন এনেছে অস্ট্রেলিয়া। ফলে এই সিরিজ জিততে মরিয়া থাকবে তারা। বিষয়টি জানেন লিটনও, তবে প্রতিপক্ষ নয়, নিজেদের খেলাতেই মনোযোগ রাখতে চান তিনি, ‘টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটটাই এমন একটি সংস্করণ, যেখানে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলতে হয়। ব্যাটিং হোক কিংবা বোলিং প্রতিটি দলই ইতিবাচক ও আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে চায়। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল, তারা অবশ্যই তাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে চাইবে। আমরাও একইভাবে নিজেদের সেরাটা মাঠে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই নামব।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানা ছিলেন না। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে তিনজনই ফিরেছেন। এছাড়া স্কোয়াডে আছেন শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান এবং তরুণ পেসার আব্দুল গাফফার সাকলাইন। মূল পেসারদের অবর্তমানে সুযোগ পাওয়া পেসাররাও ধারাবাহিকভাবে ভালো করছেন।
পেস ইউনিটের এই প্রতিযোগিতাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন লিটন, ‘আমাদের পেস বোলিং বিভাগ এখন অনেক শক্তিশালী। সেরা একাদশে জায়গা পাওয়ার জন্য বোলারদের মধ্যে ভালো প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে, যা দলের জন্য ইতিবাচক। একই সঙ্গে বেঞ্চ শক্তিও বেড়েছে। আমি আগেও বলেছি, তাসকিনের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা আমাদের জন্য বড় সম্পদ। গত সিরিজে তাদের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল, তবে এবার তারা ফিরেছে। আমরা পূর্ণশক্তির দল নিয়েই মাঠে নামছি এবং লক্ষ্য ভালো ক্রিকেট খেলা।’
বিশেষ করে শরিফুলের কথা উল্লেখ্য করলন লিটন, ‘আমার মনে হয় না শরিফুল কখনও নিজেকে প্রথম পছন্দের বাইরে মনে করে। সেও আমাদের প্রথম সারির বোলারদের একজন। আসলে এখন আমাদের পেস বোলিং ইউনিট এতটাই শক্তিশালী যে টেস্ট, ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি যে কোনো সংস্করণেই একসঙ্গে তিনজনের বেশি পেসার খেলানো সম্ভব নয়। ফলে কেউ ভালো করলে অন্য কাউকে কখনও কখনও জায়গা ছাড়তে হয়। শরিফুলও গত কয়েকটি সিরিজে এক-দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজেও শেষ ম্যাচে খেলেছিল এবং ভালো বোলিং করেছে। এটা দলের জন্য ইতিবাচক দিক যে নতুন বা সুযোগ পাওয়া ক্রিকেটাররা যখনই মাঠে নামছে, তারা নিজেদের প্রমাণ করতে পারছে এবং দলের প্রত্যাশা পূরণ করছে।’
অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে সফল হতে হলে লোয়ার মিডল অর্ডারের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘আমি আগের সিরিজেও বলেছিলাম, আমাদের লোয়ার মিডল অর্ডার ব্যাটারদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আছে। তারা যদি ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু অবদান রাখতে পারে, তাহলে দলের ফলাফল আরও ভালো হবে। খুব বেশি কিছু করার প্রয়োজন নেই, ছোট ছোট অবদানও অনেক সময় ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।’











































