বাগেরহাট প্রতিনিধি||
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার পদ্মনগর এলাকায় আট বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক দোকানদারের বিরুদ্ধে। তবে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং থানায় মামলা করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারটিকে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নাম ব্যবহার করে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও দুই দিনেও কোন মামলা রের্কড হয়নি। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ জুন মাদ্রাসার টিফিন বিরতির সময় শিশুটি খাবার কিনতে স্থানীয় একটি দোকানে যায়। এ সময় দোকানদার হাকিম সরদার তাকে দোকানের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। শিশুটি বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনাটি প্রকাশ করলে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়।
ভুক্তভোগী শিশুর পিতারঅভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়েকে দোকানদার হাকিম সরদার অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। বিষয়টি জানার পর আমি থানায় মামলা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মাদ্রাসার শিক্ষক ইমরান সাহেব এবং ডিসি অফিসের কর্মচারী রুস্তম সাহেব আমাকে উপজেলা বিএনপির এক নেতার নাম বলে মামলা থেকে বিরত থাকতে বলেন। তারা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে শালিসের মাধ্যমে মীমাংসার আশ্বাস দেন।
তিনি আরও জানান, তার মেয়ে স্থানীয় সরদার বজলুর রহমান এতিমখানা ও মাদ্রাসা’র তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী, যা বিএনপি নেতার পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, ঘটনাটি নিয়ে থানায় অভিযোগ না করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে বিএনপি নেতার নাম ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও চাপ দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রুস্তম মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, বাচ্চাটির বাবার মুখ থেকে আমি বিষয়টি শুনেছি, ঘটনা সত্য হতে পারে। স্থানীয় ইমাম মুফতি সরদার ইমরান এবং মানফুজুল বিষয়টি প্রাথমিকভাবে শালিসের চেষ্টা করছেন।
এদিকে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে কচুয়া উপজেলা বিএনপির ঐ নেতা মোবাইল ফোনে বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। অভিযুক্তের দোকান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
শিশুর পরিবার যদি আইনের আশ্রয় নিতে চায়, তবে আমি তাদের পাশে থাকব। ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটি স্থানীয় নব্য জামায়াতপন্থীদের অপপ্রচার।
কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বার বার বলার পরেও বিষয়টি সম্পর্কে আমরা এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলেই মামলা রের্কড করা হবে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।











































