Home Uncategorized খুলনায় জয় বেশি, তবুও বঞ্চনা

খুলনায় জয় বেশি, তবুও বঞ্চনা

0

মন্ত্রিসভা ও সংরক্ষিত আসনে উপেক্ষিত বিএনপি

শামিম শিকদার||


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা অঞ্চলে তুলনামূলক ভালো ফল করেও মন্ত্রিসভা ও সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিনিধিত্ব না পাওয়ায় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে| নির্বাচনের পর সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় খুলনাকে উপেক্ষা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ এখন স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে|

নির্বাচনে খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে বিএনপি জয় পেয়েছে মাত্র ১১টিতে| এর মধ্যে খুলনা জেলার ৬টি আসনের ৪টিতেই জয়লাভ করে দলটি, যা বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত| এই ফলাফলের ভিত্তিতে খুলনা থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে ব্যাপক প্রত্যাশা ˆতরি হয়েছিল| সেই প্রত্যাশা থেকেই খুলনা অঞ্চলের অন্তত ১২ জন নারী নেত্রী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন| কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাউকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়নি, যা নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে|


অন্যদিকে, পাশের যশোর জেলায় বিএনপি ৬টি আসনের মধ্যে ৫টিতেই পরাজিত হলেও যশোর-২ আসনের পরাজিত প্রার্থী সাবিরা সুলতানা মুন্নী সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন| একইভাবে যশোর ও বাগেরহাট জেলা থেকে নির্বাচিত দুইজন সংসদ সদস্যকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে| এসব সিদ্ধান্ত খুলনার নেতাকর্মীদের কাছে ˆবষম্যমূলক বলে মনে হচ্ছে| গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার সবগুলো আসনে জয় পায় জামায়াত| বাগেরহাটের ৪টি আসনের মধ্যে ৩টিতেও জয় তাদের| এই প্রেক্ষাপটে খুলনায় বিএনপির ৪টি আসনে জয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হলেও সরকার গঠনে সেই প্রতিফলন দেখা যায়নি|


খুলনার স্থানীয় নেতারা বলছেন, জয়ী আসনের সংখ্যার ভিত্তিতে সংরক্ষিত আসন বণ্টন হওয়ায় তাদের প্রত্যাশা ছিল বেশি| দৌলতপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে খুলনা অগ্রগামী ছিল| ৬টির মধ্যে ৪টি আসনে জয়লাভ করেও আমরা অবহেলিত|”

মনোনয়নপ্রত্যাশী ও মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ˆসয়দা রেহেনা ঈসা বলেন, “খুলনা-বাগেরহাট থেকে অন্তত একজনকে সংরক্ষিত আসনে নিলে ভোটারদের প্রতি সম্মান দেখানো হতো| সেই আশাতেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করি| তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি|”


খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, “নেতাকর্মীরা হতাশ হলেও আমরা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাশীল| জয়ী আসনের ভিত্তিতে আমাদের প্রত্যাশা একটু বেশি ছিল, সেটিই পূরণ হয়নি|” এদিকে, খুলনার উন্নয়ন ইস্যু নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজ ও ব্যবসায়ী নেতারা|

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমš^য় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, “বরাবরের মতো এবারও খুলনার মানুষ ˆবষম্যের শিকার হয়েছে| শিল্প-কলকারখানা বন্ধ, গ্যাস সংকট ও ব্যবসায় স্থবিরতার এই সময়ে মন্ত্রিসভায় খুলনার কোনো প্রতিনিধি না থাকা বড় বঞ্চনা|”


খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, “দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে| কিন্তু মন্ত্রিসভায় খুলনার কেউ না থাকায় সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়ন নিয়ে আমরা শঙ্কিত|” বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আসাদুর রহমান বলেন, “খুলনায় ৬টি আসনের মধ্যে ৪টিতে জয়লাভ করেও কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী না পাওয়াটা অত্যন্ত হতাশাজনক| এটি খুলনাবাসীর প্রতি অবিচার|”


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে খুলনা থেকে বিএনপির নির্বাচিত চার সংসদ সদস্য হলেন—আজিজুল বারি হেলাল (খুলনা-৪), রকিবুল ইসলাম বকুল (খুলনা-৩), আলী আসগার লবি (খুলনা-৫) এবং আমীর এজাজ খান (খুলনা-১)|


সব মিলিয়ে, নির্বাচনী সাফল্য সত্ত্বেও খুলনাকে সরকার গঠনে প্রাপ্য গুরুত্ব না দেওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে| স্থানীয়দের মতে, এই বঞ্চনা দীর্ঘমেয়াদে দলের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে|