মিলি রহমান।।
লেবু পানির উপকারিতা অনেক। এ কারণে চিকিৎসকেরা খালি পেটে এ পানীয় পানের পরামর্শ দেন। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখার পাশাপাশি এ পানীয় কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে।
হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। ‘হার্ভার্ড হেলথ’-এ প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, লেবুতে থাকা সাইট্রেট কিডনি স্টোনের ঝুঁকি কমাতে পারে। সাইট্রেট হলো এক ধরনের লবণ, যা ক্যালসিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্যালসিয়াম সাইট্রেটে পরিণত হয়। ক্যালসিয়াম অক্সালেট বা ফসফেটের সঙ্গে যুক্ত হলে পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়ে। কিন্তু সাইট্রেট পাথর তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে।
ভারতীয় ইউরোলজিস্ট লোকেশ শর্মা এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, লেবু পানি পানে প্রস্রাবের মাত্রা বাড়ে। তাছাড়া, লেবুতে থাকা সাইট্রেট কয়েকটি বিশেষ পাথর তৈরিতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাছাড়া পানি কম পান করলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়। এর ফলে বিভিন্ন খনিজ সহজে থিতিয়ে পড়ে পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। নিয়ম করে লেবু পানি পান করলে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়বে, পর্যাপ্ত পানির জোগানও বজায় থাকবে। পানির জোগানও বজায় থাকলে কিডনি স্টোনের ঝুঁকিও কমে।
লেবু পানি কি সতিই কিডনি স্টোনের ঝুঁকি কমাতে পারে?
‘দ্য ল্যানসেট’ নামক জার্নালে প্রকাশিত ২০২১ সালের একটি রিপোর্ট বলছে, তাজা লেবুর রস খাওয়ার অভ্যাস কিছুটা হলেও ক্যালসিয়াম অক্সালেট জাতীয় স্টোন তৈরিতে বাধা হতে পারে। চিকিৎসক লোকেশ শর্মার কথায়, শুধু লেবুর রস নয়, কিডনিতে পাথর তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমাতে হলে তার সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান এবং সঠিক খাদ্যতালিকাও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের তথ্য বলছে, লেবুর রস পর্যাপ্ত পানি দিয়ে খাওয়া হলে তা যেমন উপকারী, তেমনই কারও কারও ক্ষেত্রে ক্ষতিকর হতে পারে। লেবুর রসের মাত্রা বাড়লে প্রস্রাবের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, সে ক্ষেত্রে তা স্বাস্থ্যহানির কারণও হতে পারে। পাশাপাশি, ভারতের আরেক চিকিৎসক বিনায়ক উকিরদে মনে করছেন, লেবুর রস কিডনি স্টোন তৈরি হওয়া বা বড় হওয়ার পথে বাধা হতে পারে। কিন্তু তা বড় কোনও স্টোন বা পাথরকে গলিয়ে ফেলতে পারে না। ফলে কিডনি স্টোনের ওষুধ হিসাবে তা ব্যবহার করা যায় না, বরং সাবধানতা অবলম্বনে তা ডায়েটে যুক্ত করা যেতে পারে। তবে অম্বল, গ্যাস, ক্রনিক কিডনির অসুখ থাকলেও লেবুর রস বেশি খাওয়া ঠিক নয়।











































