Home আঞ্চলিক হাসপাতাল হেনস্তা ইস্যুতে নড়াচড়া: জবাব দিলেন শোকজপ্রাপ্ত ৬ বিএনপি নেতা

হাসপাতাল হেনস্তা ইস্যুতে নড়াচড়া: জবাব দিলেন শোকজপ্রাপ্ত ৬ বিএনপি নেতা

96


স্টাফ রিপোর্টার।।


খুলনার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে ‘মব’ সৃষ্টি, ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে দেওয়া এবং চিকিৎসক নেতা ডা. রফিকুল হক বাবলুকে হেনস্তার ঘটনায় শোকজপ্রাপ্ত ছয় বিএনপি নেতা বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে মহানগর বিএনপির মনিটরিং সেলের সামনে হাজির হয়ে তাদের লিখিত জবাব দিয়েছেন।


শোকজপ্রাপ্ত নেতারা হলেন-খানজাহান আলী থানার সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্লা সোহাগ হোসেন, বিএনপি নেতা এনামুল হাসান ডায়মন্ড, মীর কায়সেদ আলী ও শেখ ইকবাল হোসেন।


বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ৮টা থেকে শুরু হয়ে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মনিটরিং সেলের কার্যক্রম চলে। এ সময় মনিটরিং সেলের আহ্বায়ক বেগম রেহানা ঈসা, সদস্য এড. তৌহিদুর রহমান চৌধুরী তুষার, অ্যাডভোকেট মোল্লা মাসুম রশিদ ও বদরুল আনাম খান উপস্থিত ছিলেন।


মনিটরিং সেল সূত্রে জানা গেছে, শোকজপ্রাপ্ত নেতারা লিখিত জবাব জমা দেওয়ার পাশাপাশি মৌখিক বক্তব্যও উপস্থাপন করেছেন। এর আগে, তাদের দেওয়া পৃথক শোকজ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়-দলীয় নির্দেশনা অমান্য ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে (১৩ এপ্রিল বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের ঘটনাকে কেন্দ্র করে) ২২ এপ্রিল রাত ৮টার মধ্যে মনিটরিং সেলের সামনে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।


উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলী আজগর লবী বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল পরিদর্শনে গেলে তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা ডা. বাবলুকে ঘিরে ধরে হেনস্তা করেন। এ সময় তাকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলে কটূক্তি করা হয় এবং শারীরিকভাবে আঘাতের চেষ্টা চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে পদত্যাগের চাপ দেওয়া হয়। একই ঘটনায় ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে দিয়ে নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করার অভিযোগও ওঠে।


এ ঘটনার প্রতিবাদে ১৮ এপ্রিল খুলনার চিকিৎসকরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এবং ২১ এপ্রিলের মধ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দেন। এর একদিন পরই শোকজের বিষয়টি সামনে আসে।


অন্যদিকে, রোববার সকালে হাসপাতালের সামনে ‘এলাকাবাসী’র ব্যানারে পাল্টা মানববন্ধন করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। সেখানে তারা ট্রাস্টি বোর্ডের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বক্তারা অভিযোগ করেন, পরিচালকের খামখেয়ালির কারণে বহু রোগী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং বিএনপি-সমর্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।


মীর কায়সেদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন শেখ ইকবাল হোসেন, কাজী মিজানুর রহমান, মোল্লা সোহাগ হোসেন, আলমগীর হোসেন, ইকবাল হোসেন মিজান, শেখ আবদুস সালামসহ অন্যান্য নেতারা।