Home Lead স্বাগতম প্রধানমন্ত্রী: উৎসবের আমেজ রূপসা-ভৈরব তীরে

স্বাগতম প্রধানমন্ত্রী: উৎসবের আমেজ রূপসা-ভৈরব তীরে

39


স্টাফ রিপোর্টার।।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের শিল্পনগরী খুলনায় প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে গোটা শহরজুড়ে বইছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। আজ ৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন তিনি। প্রিয় নেতাকে বরণ করতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন খুলনাবাসী।


ভিন্নধর্মী সাজসজ্জা ও পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ার বার্তা: বরাবরের মতো তোরণ, ব্যানার কিংবা প্লাকার্ড দিয়ে শহর ঢেকে ফেলার পুরোনো প্রথা ভেঙে এবার এক অনন্য ও পরিচ্ছন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। জাঁকজমকপূর্ণ সাজসজ্জার বদলে পুরো শহরকে একটি পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে দিনরাত কাজ করেছে সংশ্লিষ্টরা। নগরীর বিভিন্ন দেয়ালে আঁকা হয়েছে চোখধাঁধানো গ্রাফিতি। ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সুন্দরবন, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নানা ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক নিদর্শন।


স্মরণকালের সর্ববৃহৎ সংবর্ধনা: মহানগর ও জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর যৌথ উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে সর্বকালের সর্ববৃহৎ ও স্মরণকালের সেরা সংবর্ধনা প্রস্তুতি। রূপসার কুদির বটতলা থেকে শুরু করে রূপসা বাইপাস সড়ক হয়ে শেরে বাংলা রোড দিয়ে পাওয়ার হাউজ মোড় ঘুরে জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত সুদীর্ঘ সড়কের দুই পাশে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও মার্জিত পরিবেশে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নেবেন লাখো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন জানান, কুদির বটতলা থেকে স্টেডিয়ামমুখী পুরো পথজুড়ে খুলনাবাসীর পুষ্পবৃষ্টি ও অভিনন্দনের জোয়ার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শৃঙ্খলা রক্ষা ও যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও নগর বিএনপির সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেন, বিগত ১৭টি বছর ধরে ভালোবাসার এই খুলনা অঞ্চলটি চরম অবহেলায় এক মৃতপ্রায় নগরীতে পরিণত হয়েছিল। প্রিয় নেতার এই আগমন কেবল এক প্রশাসনিক সফর নয়, এ যেন নিঃশ্বাসে নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার মতো। খুলনার বন্ধ কলকারখানা ফের সচল হওয়া, যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ঝরে পড়া স্বপ্নগুলোকে নতুন করে বাঁচিয়ে তোলার যে মহতী প্রতিশ্রুতি তাঁর কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হবে, তার জন্যই তো অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছি আমরা।


প্রেসব্রিফিং: এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ও ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টস (সিজন-২)-এর শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এক প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি বলেন, শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং তৃণমূল থেকে দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী খুলনায় আসছেন। অতীতে খুলনা ‘স্পোর্টস সিটি’ হিসেবে যে পরিচিতি পেয়েছিল, সেই হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে কেবল বিনোদনে সীমাবদ্ধ না রেখে দক্ষ খেলোয়াড়দের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। প্রেসব্রিফিংয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান জানান, দ্বিতীয় আসরে অংশগ্রহণের জন্য এ বছর দেশের প্রায় ১৬ লাখ ২৩ হাজার তরুণ-তরুণী অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন (প্রথম আসরে যা ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার)। দেশজুড়ে ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে দল গঠন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১৪ লাখ ক্রীড়াবিদ এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। ওই দিন খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হবে। এর আগে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কালেক্টরেট প্রাঙ্গণ থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হেলিপ্যাড প্রস্তুত, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জরুরি চিকিৎসাসেবাসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত জানিয়েছেন, সফরকে স্মরণীয় করতে একটি গ্র্যান্ড র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রেসব্রিফিং ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, কেডিএ’র চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাড. শফিকুল আলম মনা, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, জেলা বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পীসহ অনেকে।


উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সফরসূচি অনুযায়ী, আজ ৫ নভেম্বর সকালে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে মোংলা বন্দরে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মোংলা বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি নতুন কনটেইনার জেটি নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক সুবিধা সম্প্রসারণের ভিত্তিবোধ স্থাপনের পাশাপাশি ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ ও ‘চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন’-এর মধ্যকার এক যুগান্তকারী সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন তিনি। এরপর সড়কপথে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (র.)-এর মাজার শরিফ জিয়ারত করবেন। সুফি সাধকের চরণস্পর্শে ধন্য সেই মা মাটি থেকে দুপুর নাগাদ তিনি পৌঁছাবেন খুলনা সার্কিট হাউজে। বিকাল ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোর ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের মহাযজ্ঞ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।