আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন আব্দুল আল-সায়েদ। মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলমান সিনেটর তিনি।
এই ধর্মীয় পরিচয়কেই নির্বাচনে তাঁর বিরুদ্ধে বড় অস্ত্র করে তুলেছিল প্রতিপক্ষরা। তাঁকে হারাতে স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তৃতা করেছেন। আল-সায়েদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়। ট্রাম্প তাঁকে অভিহিত করেছিলেন ‘জিহাদী’ হিসেবে।
এমন কথাও বলা হয়েছিল আল-সায়েদ জিতলে ক্যাপিটল হিলে মেটাল ডিটেক্টর বসাতে হবে।
এমনকি নির্বাচনের দুদিন আগে ডেমোক্র্যাট হ্যালি স্টিভেন্স দল বদলে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সের পক্ষ নিয়েছিলেন। এত কিছু করেও আল-সায়েদের বিশাল জয় ঠেকানো যায়নি। প্রতিদ্বন্দ্বী মাইকের চেয়ে ৩ লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে মিশিগান থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন আল-সায়েদ।
বিশাল জয়ের ঐতিহাসিক মুহূর্তটি তিনি উদ্যাপন করেন তাঁর স্ত্রী ডাক্তার সারাহ জুকা কুর সঙ্গে। এই দম্পতি অভিবাসী পরিবারের সন্তান। আল-সায়েদের শিকড় মিসরে, আর তাঁর স্ত্রী সারাহর শিকড় ভারকে। আল-সায়েদের জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে মিসরীয় আল-সায়েদ তাঁর বিয়ে নিয়ে পরিবারের একটি মজার মন্তব্য স্মরণ করেছেন। এর মাধ্যমে তাঁর জীবনের প্রায় দুই দশকের পুরোনো ভারতীয় সংযোগের এক ঝলক ফুটে উঠেছে।
সেই পডকাস্ট ভিডিওতে আল-সায়েদ বলেন, তিনি যখন ডা. সারাহকে বিয়ে করেন, তখন মিসর থেকে তাঁর এক চাচা এসে তাঁকে বলেছিলেন, ‘৮ কোটি মিসরীয় থাকতে তুমি কি না এক ভারতীয় নারীকে বিয়ে করলে?’ মজা করে আল-সায়েদকে বলতে শোনা যায়, “আমি উত্তর দিয়েছিলাম ‘আমু (আরবিতে চাচা), ওনাদের জনসংখ্যা ১০০ কোটি। তাই পরিসংখ্যানের দিক থেকে দেখতে গেলে এর সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি ছিল’।”
এক্স-এ ছড়িয়ে পড়া এই ক্লিপটি মূলত চলতি বছরের আগস্টে ইউটিউবে আপলোড করা ‘মিট দ্য রিয়েল আব্দুল আল-সায়েদ’ পডকাস্টের একটি অংশ। ওই আলোচনাটি মূলত তাঁর পরিবার, শৈশব এবং বেড়ে ওঠার ওপর কেন্দ্র করে ছিল।
আল-সায়েদ এবং ডা. সারাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে পড়ার সময় বাগ্দান করেন এবং ২০০৬ সালের মে মাসে বিয়ে করেন। এই দম্পতির এমিলি এবং সেরিন নামে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
আল-সায়েদ তাঁর স্ত্রীর ভারতীয় পরিবারের সাথে নিজের সুসম্পর্কের কথাও আন্তরিকভাবে প্রকাশ করেছেন। আগের একটি সাক্ষাৎকারে তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন যে, প্রায় দুই দশকের বৈবাহিক জীবনের পর তিনি হয়তো ‘যতটা না আরব, তারচেয়ে বেশি ভারতীয়’ হয়ে গেছেন।
এদিকে সারাহ-ও নিজের রসবোধের মাধ্যমে তাঁদের সম্পর্কের একটি ঝলক তুলে ধরেছেন। একটি নির্বাচনি সমাবেশে তিনি কৌতুক করে ঘোষণা করেছিলেন, ‘আমি ছাড়া অন্য কেউ তাঁকে কী করতে হবে তা বলার সাহস পায় না!’
সারাহ একটি ভারতীয়-আমেরিকান পরিবারের সন্তান, যারা কর্ণাটকের উপকূলীয় শহর ভাটকল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সারাহর দাদা জুকা কু শামসুদ্দিন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বি ডি জত্তির অধীনে তৎকালীন মহীশূর রাজ্যে (বর্তমানে কর্ণাটক) অর্থ উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁকে ভাটকল অঞ্চলের প্রথম আইনজীবী হিসেবেও গণ্য করা হতো। সারাহর বাবা ডা. তায়েব জুকা কু একজন কিডনি বিশেষজ্ঞ, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করেছিলেন।
আব্দুল আল-সায়েদের বাবা মোহামেদ আল-সায়েদ এবং তাঁর সৎমা দুজনেই মিসরের বাসিন্দা ছিলেন। ১৯৭০-এর দশকে তারা উচ্চশিক্ষা ও প্রকৌশল পেশার সূত্রে মিসরের আলেকজান্দ্রিয়া শহর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। চাচাসহ তাঁর পরিবারের একটি বড় অংশ এখনো মিসরেই বসবাস করেন, যাদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি











































