Home আন্তর্জাতিক রাহুলকে অমিত শাহের চ্যালেঞ্জ, হিম্মত থাকলে সংসদে আসুন

রাহুলকে অমিত শাহের চ্যালেঞ্জ, হিম্মত থাকলে সংসদে আসুন

3

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্য বিতর্কে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এবার তার জবাবে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাহুলের তোলা প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনা করতে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতেও কেন্দ্রীয় সরকার প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি।

শাহের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিতর্ক করতে চাইলে রাস্তায় না গিয়ে সংসদে আসতে হবে রাহুলকে। বৃহস্পতিবার হরিয়ানার কার্নালে এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে শাহ বলেন, রাহুল গান্ধী যদি সত্যিই আলোচনায় আগ্রহী হন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একটি চিঠি লিখুন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতে সরকার প্রস্তুত। সেখানে এসে বিতর্কে অংশ নিন।

শাহ বলেন, রাহুল প্রধানমন্ত্রীকে আলোচনার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। আমিও তাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। সংসদে আসুন, আলোচনা করুন। এ জন্য প্রয়োজন হলে বিশেষ অধিবেশন ডাকা হবে।

গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে দ্বিতীয়বারের মতো মোদিকে প্রকাশ্য বিতর্কে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান রাহুল।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে কোনো মঞ্চ বা স্থান বেছে নিতে পারেন। সেখানে দুজনের মধ্যে সরাসরি বিতর্ক হোক। সংবাদমাধ্যম ও দেশের তরুণ প্রজন্মও উপস্থিত থাকুক।

রাহুলের দাবি, বিদেশি শক্তির সঙ্গে কার যোগাযোগ রয়েছে, কে দেশের স্বার্থবিরোধী কাজ করছেন, এসব প্রশ্নের জবাব প্রকাশ্য বিতর্কে দেওয়া উচিত। এর আগে সোমবারও একই ধরনের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন তিনি।

রাহুলের অভিযোগ, বিদেশি শক্তির সহায়তায় মোদি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং তার সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিদেশি স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত।

গত শনিবার সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের অনুষ্ঠানে মোদির বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত। প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের বিরুদ্ধে দেশকে বিভক্ত করার চেষ্টা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন।

বিদেশে কারা কার সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করছেন এবং ভারতের শত্রুরা কাদের সমর্থন করছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। মোদির ওই বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে রাহুল প্রকাশ্য বিতর্কের আহ্বান জানান। ফলে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে।

এদিকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়েও রাহুলকে আক্রমণ করেন অমিত শাহ। তার দাবি— ২০১৪, ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এসআইআর ছাড়াই কংগ্রেস পরাজিত হয়েছে। হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রের নির্বাচনেও এসআইআর ছাড়াই বিরোধীরা হেরেছে। ফলে নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য এসআইআরকে দায়ী করার যুক্তি নেই।

অমিত শাহের অভিযোগ, সংসদের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে না দিয়ে রাস্তায় জমায়েত ও বিক্ষোভের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছেন রাহুল। তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে সংসদে ফিরে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

পাশাপাশি রাস্তায় জমায়েত করে বিজেপি কর্মীদের উসকানি দেওয়া হলে তারা যথাযথ জবাব দেবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন। সব মিলিয়ে এসআইআর, নির্বাচন ও বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মোদি সরকার ও কংগ্রেসের রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।