Home সম্পাদকীয় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের সমূলে উৎপাটন জরুরি

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের সমূলে উৎপাটন জরুরি

4

মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার হওয়া রোহিঙ্গাদের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মানবিক কারণে আশ্রয় দেয়া হলেও এখন তারা দিন দিন বিষফোঁড়া হয়ে উঠছে। এরই প্রকৃষ্ট উদাহরণ দেখা গেল রামুতে। সেখানকার ছাত্রকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের কথা বলে নিয়ে অপহরণ করেছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। পরবর্তীতে মুক্তিপণও চেয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপহৃত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। জানা যায়, ‘কক্সবাজারের রামু থেকে অপহৃত চার শিক্ষার্থীর মধ্যে রাতে তিন শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের পর আজ ভোর সাড়ে ৫টার দিকে অপর শিক্ষার্থীকেও উদ্ধার করেছে র‌্যাব। উদ্ধার হওয়া ছাত্ররা হলো- রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পেচারদ্বীপের মংলাপাড়া এলাকার মোহাম্মদ কায়সার, মিজানুর রহমান নয়ন, জাহিদুল ইসলাম মিজানুর রহমান। তাদের মধ্যে জাহিদুল সোনারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। বাকিরা অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।’

পরিবারের বরাতে ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘রামুর পেঁচারদ্বীপের বাসিন্দা সোনার পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় বাতিঘর নামের একটি আবাসিক কটেজের কর্মচারী জাহাঙ্গীর আলম ইব্রাহিমের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তার ভিত্তিতে গত ডিসেম্বর সকালে রামুর পেঁচারদ্বীপ এলাকা থেকে জাহাঙ্গীর ইব্রাহিম স্কুলছাত্রকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের কথা বলে টেকনাফের উদ্দেশে রওনা দেয়। এক পর্যায়ে ওইদিন সকাল ১০টার দিকে স্কুলছাত্রদের নিয়ে টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকায় নিয়ে যায়। এরপর থেকে স্কুলছাত্রদের খোঁজ মিলছিল না। এরই মধ্যে বুধবার রাতে নিখোঁজ থাকা স্কুলছাত্রদের স্বজনদের কাছে মোবাইল ফোনে অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন করে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাদের মুক্তিপণ বাবদ ২০ লাখ টাকা দাবি জানায়। মুক্তিপণ না দিলে স্কুলছাত্রদের মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রোহিঙ্গাকে আটক করেছে এপিবিএন।’

রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই আমরা এর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর দিকের কথা বলে আসছিলাম। শিগগিরই সংকট সমাধান না হলে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে, আমাদের সেই শঙ্কারই বাস্তব প্রতিফলন ঘটছে প্রতিনিয়ত। এর আগে রোহিঙ্গা নেতা মুহিব্বুল্যাহকে হত্যা করেছে খোদ রোহিঙ্গাদেরই একটি পক্ষ। এছাড়াও ক্যাম্পভিত্তিক সন্ত্রাসী কার্যক্রম তো রয়েছেই। এভাবে চলতে থাকলে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোও একসময় সাধারণ রোহিঙ্গাদের নিজেদের দলে ভেড়াতে চাইবে। বিশ্বের কোনো বিবেকবান মানুষের জন্যই তা কখনও কাম্য নয়। সেজন্য রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। কূটনৈতিকভাবে রোহিঙ্গা সমস্যার কুফল বিশ্ববাসীর কাছে নতুন করে তুলে ধরতে হবে। সন্ত্রাসমুক্ত বিশ্বের জন্যই এটা জরুরি। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের জন্য আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।