ঢাকা অফিস ।।
দেশজুড়ে পুরোদমে চলছে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি। ওয়ার্ডভিত্তিক গণটিকা কর্মসূচিতে প্রতিদিনই ভীড় করছেন সাধারণ মানুষ। হাসপাতালগুলোতেও চলছে টিকাদান কর্মসূচি। এই পর্যন্ত দেশজুড়ে দেড় কোটির বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন করে টিকা পাওয়ার আশায় আছেন আরও অন্তত ৩ কোটি মানুষ। প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে এই তালিকা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে দেশে অন্তত ১৩ কোটি মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হবে। এজন্য প্রয়োজন হবে ২৬ কোটি টিকা। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব বলছে, বুধবার (১১ আগস্ট) পর্যন্ত দেশে ১ কোটি ৫০ লাখ ২৩ হাজার ১৬২ জনকে করোনাভাইসের প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত দুই ডোজ পেয়েছেন মাত্র ৫০ লাখ ৬৫ হাজার ৮৯৫ জন। গণটিকা দানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৫-এ রয়েছে।
সূত্র বলছে, ৩ কোটি মানুষ টিকা পেতে আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সূত্র থেকে বাংলাদেশ টিকা পেয়েছে মাত্র ২ কোটি ৯০ লাখ। এর মধ্যে দেড় কোটি টিকা ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে। সেই হিসাবে দেশে মজুদ রয়েছে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টিকা।
দরিদ্র দেশগুলোতে টিকাদান নিশ্চিতের বৈশ্বিক জোট ‘গ্যাভি’র ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, দেশে আসা ২ কোটি ৯০ লাখ টিকার মধ্যে কোভ্যাক্সই বিনামূল্যে দিয়েছে ১ কোটি ৭ লাখ ১৫ হাজার টিকা। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মর্ডানা ৫৫ লাখ, ফাইজার ১ লাখ ৬২০, সিনোফার্ম ৩৪ লাখ ৭১ হাজার ৬০০ এবং জাপান অ্যাস্ট্রাজেনেকা’র ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ৩০০ টিকা দিয়েছে। কোভ্যাক্সের আওতার বাইরে প্রথমে ভারত উপহার দিয়েছিলো অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকা’র ২০ লাখ টিকা। যদিও চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের কেনা টিকা শেষ পর্যন্ত সরবরাহ করেনি ভারত।
পরিস্থিতি বলছে, শিগগিরই টিকা আমদানি না করা গেলে তৈরি হতে পারে বড় ধরনের সংকট। যদিও বাংলাদেশকে চলতি বছরে আরও ৬ কোটি টিকা বিনামূল্যে দেওয়ার প্রতিশ্রতি দিয়েছে কোভ্যাক্স। দরিদ্র দেশগুলোতে টিকাদান নিশ্চিতের বৈশ্বিক জোট ‘গ্যাভি’র ওয়েবসাইটে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে কোভ্যাক্সের টিকা আমদানির বিষয়টি সমন্বয় করছে ইউনিসেফ বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার নিজেদের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেইজে ইউনিসেফ জানায়, ৩৫ লাখ টিকার দ্বিতীয় শিপমেন্ট সেপি, গ্যাভি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ-এর নেতৃত্বে দাতা দেশগুলোর আর্থিক সহায়তায় কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটির মাধ্যমে দেশে পৌঁছে গেছে।
শিগগিরই কোভ্যাক্সের টিকার চালান আসবে কি না জানতে ইউনিসেফ বাংলাদেশের সংগে যোগযোগ করলে তেমন কোনও তথ্য দিতে পারেনি। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, টিকার বিষয়টি সরাসরি সরকারের সংগে আলোচনা হয়। ইউনিসেফ নিজস্ব তত্ত্বাবধানে সরকারের কাছে পৌঁছে দেয়। কখন কতো চালান আসবে, তা গ্যাভি ও বাংলাদেশ সরকার জানে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কোভ্যাক্স বাংলাদেশকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ৬ কোটি ডোজি টিকা পাঠাবে। কয় ধাপে কয়টি চালানে টিকাগুলো পাঠানো হবে, তা সরকারকে চিঠি দিয়ে জানানো হবে। এই ৬ কোটি টিকা বিনামূল্যে দেওয়া হবে। এরপর টিকা নিতে হলে কিনে নিতে হবে।
এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, চীন থেকে সিনেফার্ম-এর ৬ কোটি ডোজ টিকা কেনার অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শিগগিরই এই টিকাগুলো আনা হবে। অন্য মাধ্যম থেকেও করোনা’র ভ্যাকসিন সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।










































