আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে শীঘ্রই মার্কিন ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার দাবি করেছেন। তার এ দাবির প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান।
শনিবার (১৫ আগস্ট) তেহরান বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে।’ ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাওয়াদি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় তেহরান কার্যত যে প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছিল, তা কেবলমাত্র ইরানের নির্দেশেই বন্ধ ও খোলা হবে।
এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প বলেছেন যে ইরানের পরাজয়ের পর তিনি শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন। হরমুজ প্রণালি টুইট করে, এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার (বিমানবাহী রণতরী) পাঠিয়ে, কোনো নির্দেশ জারি করে বা নির্বাচনী ভাষণ দিয়ে দখল করা যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘একবারের জন্য হলেও বাস্তবতা মেনে নিন—এ পর্যন্ত আপনারা চরম পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছেন। যতক্ষণ না আপনারা পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নিচ্ছেন এবং আপনাদের অবাস্তব ভ্রম থেকে বের হচ্ছেন, ততক্ষণ ইরান অবরোধ অব্যাহত রাখবে।’
নিউইয়র্কের একটি পুলিশ একাডেমিতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে হাসতে হাসতে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানকে পুরোপুরি পরাজিত করার কাজ শেষ হওয়ার পর, যে ইরান খুব বাজেভাবে পরাজিত হচ্ছে—খুব শীঘ্রই আমি হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব।’
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা পরে স্পষ্ট করে বলেন, ট্রাম্প প্রকৃতপক্ষে রসিকতা করছিলেন।
হরমুজের ওপর ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে, দাবি ট্রাম্পের
ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (১২ আগস্ট) দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে’। ট্রুথ সোশ্যাল-এর এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এটি আমরা আমাদের কাছেই রেখে দেবো।’
তিনি আরও বলেন, আমাদের নৌ-অবরোধকে সবাই ‘স্টিলের দেয়াল’ বলে অভিহিত করছে এবং ইরানের এ ব্যাপারে কিছুই করার নেই।
তবে ইরানের সামরিক বাহিনী ট্রাম্পের এই দাবিকে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা বলেছে, এই কৌশলগত জলপথটি পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড খাতাম-আল আম্বিয়ার মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভিডিওতে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল করছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মিথ্যাচার ও বানোয়াট কথা ছাড়া আর কিছুই নয়।’
তিনি বলেন, ‘অতীতের মতো হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শক্তিশালী ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর অনুমতি ও তত্ত্বাবধান ছাড়া কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ বা ট্যাঙ্কারের এই প্রণালি দিয়ে নিরাপদে পার হওয়ার সুযোগ ছিল না এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।’
ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক আব্বাস আরাগচিও বলেছেন, এই জলপথ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভুল হিসাব-নিকাশ করছে।
তিনি এক্স-এ বলেন, ‘গোয়েন্দা ব্যর্থতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ভুল হিসাব-নিকাশ করে আসছে। যেমন: ইরানের ওপর যুদ্ধ। আর এখন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে আরও বড় ভুল হিসাব-নিকাশ করছে।’
ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে যৌথ হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের তৎকালীন ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতা নিহত হন। এর প্রতিক্রিয়ায়, ইরানি বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।











































