Home Lead ১৫ আগস্ট ঘিরে বিশৃঙ্খলার পরিকল্পনা পতিত আ’লীগের

১৫ আগস্ট ঘিরে বিশৃঙ্খলার পরিকল্পনা পতিত আ’লীগের

1


ঢাকা অফিস।।

দেশে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছে পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ। এ জন্য বিদেশে পলাতক থাকা দলটির সিনিয়র নেতারা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মীদের দায়িত্ব দিয়েছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য বাঁছাই করা হয়েছে অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত কিন্তু দলের জন্য নিবেদিত এমন কর্মীদের। আর নাশকতা বাস্তবায়নে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে। দেশের বাইরে থেকে হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে এসব অর্থ। এমনই তথ্য পেয়েছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। ১৫ আগস্ট কেন্দ্র করে যেকোনো স্থানে বোমা হামলা কিংবা নাশকতাই এদের মূল টার্গেট। তবে যেকোনো ধরনের নাশকতা কিংবা অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি ঠেকাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


এ দিনটিকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে ডিএমপি। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোয়াট, বোম্ব ডিস্পোজাল ও কে-নাইন ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন থাকবে। মাঠে থাকছে সোয়াট-বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিট।


এদিকে একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি সাভার ও বরিশালে বোমা বিস্ফোরণের পেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর সম্পৃক্তরা রয়েছে। যদিও এসব বিষয় তদন্তে বেরিয়ে আসবে।


১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী। অতীতের মতো এ দিন জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করে মাসব্যাপী কর্মসূচিও পালন করছে দলটি। ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বর শেখ মুজিবের প্রতিকৃতিতে এবং বনানীর কবরস্থানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য দলটির এক বিবৃতিতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানানো হয়েছে। যদিও তাদের পরিকল্পনা রয়েছে ভিন্ন।


১৫ আগস্ট সামনে রেখে এর আগে বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগ। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর ভাটারা থানার আবাসিক এলাকার এম ব্লক থেকে ৫৩ জন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ব্যানার ও কালো ব্যাগ জব্দ করা হয়। ভাটারা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, ভাটারা থানায় (ব্লক-এম ব্লক, রোড-২৮, বাসা-২১৭৩ কে জেড এম হাইটসের দ্বিতীয় তলায় ফ্ল্যাট বি-২) অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগসহ আওয়ামী লীগের অংঙ্গ-সংগঠনে নারী-পুরুষসহ ৫৩ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চলে শোক দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি সভা ও ঝটিকা মিছিল সফল করার লক্ষ্যে প্ল্যাকার্ড, ব্যানারসহ রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সমবেত হয়। পরে সেখানে তারা সবাই খিচুড়ি খাওয়া শেষ করে। গ্রেফতারকালে তাদের কাছ থেকে একটি ব্যানার উদ্ধার করা হয়। সবার সাদা পাঞ্জাবি ও বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করা ছিল। এখানে বড় নেতাদের আসার কথা ছিল কিন্তু তার আগেই আমরা অভিযান চালিয়েছি। থানার বাউন্ডারির ভেতরে গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীরা ব্যানার নিয়ে জয় বাংলা স্লোগান দিতে থাকেন। গতকাল তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ৫ আগস্ট বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারায় এখন ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে পরিকল্পনা সাজিয়েছে পতিত আওয়ামী লীগ। ওই পরিকল্পনায় রাজনৈতিকভাবে বিতাড়িত কিছু সাবেক আমলা, পুলিশ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যও সম্পৃক্ত, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থেকে শেখ হাসিনার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘দ্বিতীয় দফা প্রতিশোধমূলক নাশকতার’ পরিকল্পনায় সহায়তা করছেন।


ডিএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, ১৫ আগস্ট কেন্দ্র করে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ডিএমপি। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা জননিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা মোকাবিলায় পুরো রাজধানীকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয়েছে।


রাজধানীজুড়ে পিকেট ও চেকপোস্ট ডিউটি পরিচালনা করা হচ্ছে, মহানগরের সব প্রবেশপথে চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার থাকবে। ডিবি ও সিটিটিসির সদস্যরা অপারেশনাল কার্যক্রমে মোতায়েন থাকবেন।


সোয়াট, বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিট ও কে-নাইন ইউনিট গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও জনসমাগমস্থলে সুইপিং কার্যক্রম পরিচালনা করবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে। এসব এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির আওতায় থাকবে। সিটিএসবি ও আইএডির সদস্যরা সাদা পোশাকে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা ও তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রাখবে। এছাড়া সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত র‌্যাব ও সিআইডি টিম মোতায়েন থাকবে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় পর্যাপ্ত কুইক রেসপন্স টিম-কিউআরটি প্রস্তুত ও মোতায়েন থাকবে। অতিরিক্ত অফিসার ও ফোর্স বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, অনুষ্ঠানস্থল, মেট্রোরেল স্টেশন, বাসটার্মিনাল, লঞ্চঘাট, ট্রেন স্টেশন ও শপিংমলসহ সংবেদনশীল এলাকায় মোতায়েন থেকে নিñিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। সরাসরি মাঠে তদারকি করবেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


এদিকে র‌্যাব জানিয়েছে, ১৫ আগস্ট ঘিরে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা হাতে নিয়েছে সংস্থাটি। এ লক্ষ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সদস্যদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি ঘিরে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী, নিষিদ্ধ সংগঠন বা রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কুচক্রী মহল যেন নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য দেশব্যাপী বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। র‌্যাবের প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকার নিরাপত্তা হুমকি পর্যালোচনা করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।

গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর অপতৎপরতা ও গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সোর্স নিয়োগ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে যাতায়াতের রুটগুলোতেও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের মোতায়েন করে নজরদারি করা হচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় যেকোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা প্রতিরোধে র‌্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতেও সাইবার পেট্রলিং জোরদার করেছে র‌্যাব। বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট, মন্তব্য বা ছবি আপলোডের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। কোথাও বিস্ফোরক বা বিস্ফোরক-সদৃশ কোনো বস্তু পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে র‌্যাবের বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।


গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলা দিয়ে ভারতে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের দলীয় ক্যাডারদের দেশে প্রবেশ করানো হচ্ছে। এ জন্য ‘পুশইন’সহ বিভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নেয়া হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, আওয়ামী লীগের কিছু যুব ও ছাত্রসংগঠনের নেতা মাঠে না থাকলেও অনলাইনে ‘ভার্চুয়াল স্কোয়াড’ গড়ে তুলেছে, যারা ফেসবুক, টেলিগ্রাম ও ইউটিউবভিত্তিক চ্যানেল চালিয়ে সামাজিক অস্থিরতা ছড়ানোর কাজ করছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এদের অপতৎপরতা রোধে সক্রিয় রয়েছে।