আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে বেলুচিস্তান। সম্প্রতি সময়ে এই আন্দোলন আরো জোরদার করে ১১ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস ঘোষণা করেছেন বেলুচ নেতা মীর ইয়ার বেলুচ।
এর পরই নড়েচড়ে বসেছে শেহবাজ শরিফ সরকার। বিদ্রোহ দমনে সর্বাত্মক বল প্রয়োগ করছে দেশটির সেনাবাহিনী। গত বুধবার (১২ আগস্ট) প্রদেশটির সুরাব জেলার গিদার গোয়ানধান এলাকায় বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী। হামলায় বিস্ফোরিত ‘ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে’র ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ’ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বেলুচ নেতা মীর ইয়ার বেলুচ।
সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনেন এই বেলুচ নেতা।
এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, এক্স’য়ে দেওয়া পোস্টে মীর ইয়ার বেলুচ জানিয়েছেন, গোয়ানধানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হামলার প্রমাণ হিসেবে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) নিয়ে যাওয়ার হবে। ওই অভিযানে নারী, শিশু ও নবজাতকসহ ৩০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
তবে এই ঘটনার পর পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ শাখা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই বিস্ফোরণটি মূলত জঙ্গিরা গাড়িবোমা তৈরির সময় দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
এতে আট জঙ্গি নিহত হয়েছে। সরকারি এই বয়ানকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং বিশ্বসম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে বেলুচ নেতা অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র ও আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ মহাপরিচালক (ডিজি আইএসপিআর) বিমান হামলাকে ভূমিতে একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণ হিসেবে দেখিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে বিশ্ব সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করছেন।
সরাসরি ওয়াশিংটনের প্রতি আবেদন জানিয়ে বেলুচ নেতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে কঠোর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। একইসাথে তিনি পাকিস্তান বিমানবাহিনীকে দেওয়া সামরিক সরঞ্জাম সহায়তা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন অবিলম্বে বন্ধ করারও আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, বেলুচিস্তান প্রজাতন্ত্র ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, যেন তারা পাকিস্তানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
এফ-১৬ বিমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহ বাতিলসহ যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সকল আধুনিকীকরণ প্যাকেজ স্থগিত করে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও বিমান বাহিনী স্বাধীন বেলুচিস্তান প্রজাতন্ত্রের জনগণের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে এই অস্ত্র ও বিমানগুলো ব্যবহার করছে। বেলুচিস্তানে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের জন্য পাকিস্তানকে ওয়াশিংটনের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
দ্য বেলুচিস্তান পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, গিদার গোয়ানধান এলাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় ২০ জনেরও বেশি নিহত এবং অন্তত ১৬ জন আহত হওয়ার খবর প্রকাশের পর বেলুচিস্তান জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। এরই জের ধরে এই ঘটনাটি ঘটেছে।
হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ আহত এবং নিহতদের মরদেহ সুরাবের জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। যেখানে আহতদের চিকিৎসা চলছিল। কিছু বাসিন্দা দাবি করেছেন, প্রাথমিকভাবে জানানো সংখ্যার চেয়ে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে।











































