স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা আদালতপাড়ায় প্রকাশ্যে গুলি ও কুপিয়ে জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই বছর পর দীর্ঘ তদন্ত শেষে বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে খুলনা সদর থানার ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ চার্জশিট জমা দেন।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, প্রধানত মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে এই নৃশংস জোড়া হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, হত্যার আগের দিন রাতে রূপসা উপজেলার আইচগাতি এলাকার সেনেরবাজারে সন্ত্রাসী ইমরানের একটি কার্যালয়ে বসে এই হত্যাকাণ্ডের বিশদ পরিকল্পনা বা ছক তৈরি করা হয়।
মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন— এজাজ, কামরুল, শুভ, হাসিব, রোমান, কাউয়া মিরাজ, চিংড়ি পলাশ, সাইফি, মুন্না, লবী গাজী, ইমরান, আরেফিন ও রেজাউল মুন্সি হৃদয়।
তদন্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, চার্জশিটভুক্ত ১৩ জন আসামির মধ্যে পুলিশ ও এসআরবি-৬ যৌথ অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। বাকি ৮ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন এবং তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটকের সামনের ব্যস্ত সড়কে দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ফজলে রাব্বি রাজন ও হাসিব হাওলাদারকে। নিহত দুজনই খুলনার স্থানীয় এক শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী পলাশ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আদালতপাড়ার মতো সংরক্ষিত ও জনাকীর্ণ এলাকায় এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি তখন সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল।











































