যশোর অফিস।।
কপোতাক্ষ নদ থেকে চৌগাছার ভ্যানচালক ইখলাস হোসেনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। ভ্যান ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশে ইখলাসকে (২৯) হত্যার পর লাশ নদে ফেলে দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, আটক দুইজন জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইখলাসের ভ্যানও উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
আটক দুইজন হলেন- যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. মেহেদী হাসান এবং বিষহরি গ্রামের মোস্তফা কামালের ছেলে আশরাফুল আলম।
নিহত ইখলাস চৌগাছা উপজেলার স্বরূপদহ ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের সানাউল হোসেনের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ইখলাস ভ্যান নিয়ে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরদিন এ ঘটনায় তার পরিবার চৌগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে।
নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আরিফ হোসেন জানান, ২২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের পূর্বপাড়ায় মারুফ মল্লিকের ব্রয়লার ফার্মের পেছনে কপোতাক্ষ নদে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে ঝিকরগাছা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যরা লাশটি ইখলাসের বলে শনাক্ত করেন। এরপর ইখলাসের বাবা ঝিকরগাছা থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
মামলার পর এএসপি আরিফ হোসেনের নেতৃত্বে ঝিকরগাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইদ্রিস আলী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোল্লা রেজাউল করিমসহ পুলিশের একটি দল কাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে মেহেদী হাসানকে সদর উপজেলার ঝাউদিয়া গ্রাম থেকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঝিকরগাছার গঙ্গানন্দপুর এলাকা থেকে আশরাফুল আলমকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে দুইজনই ইখলাসকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
এএসপি আরিফ হোসেন জানান, ভ্যান বিক্রি করে অর্থ লাভের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে তারা চেতনানাশক ব্যবহার করে। আটক দুইজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইখলাসের ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ গোপন করার জন্য সেটি কপোতাক্ষ নদে ফেলে দেওয়া হয়।











































