Home স্বাস্থ্য অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কমাতে যে অভ্যাসগুলো জরুরি

অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কমাতে যে অভ্যাসগুলো জরুরি

0

মিলি রহমান।।

ব্যস্ত জীবনে সময় বাঁচাতে অনেকেই প্যাকেটজাত নুডলস, চিপস, বিস্কুট, কেক, কোমল পানীয়, ইনস্ট্যান্ট খাবারসহ নানা ধরনের অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর নির্ভর করেন। সহজে পাওয়া যায় এবং দ্রুত খাওয়া যায় বলে এসব খাবার অনেকের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অংশ হয়ে উঠেছে। তবে নিয়মিত ও বেশি পরিমাণে এসব খাবার খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন এক গবেষণায় অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের বেশি গ্রহণের সঙ্গে হৃদরোগ, ক্যান্সার, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তাই খাবার বাছাইয়ের সময় শুধু স্বাদ বা সুবিধার কথা না ভেবে খাবারটি কতটা প্রক্রিয়াজাত, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

গবেষণায় যা পাওয়া গেছে

‘ফ্যামিলি মেডিসিন অ্যান্ড কমিউনিটি হেলথ’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া ও ওশেনিয়ার ৫১টি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব গবেষণায় ৮৮ লাখের বেশি মানুষ অংশ নেন। গবেষণায় অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খাওয়ার সঙ্গে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার, স্থূলতা, ডায়াবেটিস, বিষণ্নতা ও পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০০ গ্রাম অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকি ১৪ শতাংশ এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি ১১ শতাংশ বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। তবে এসব ফলাফল সম্পর্ক নির্দেশ করে; প্রতিটি ক্ষেত্রে সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক নিশ্চিত করে না।

খাবারের তালিকায় পরিবর্তন আনুন

অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানোর সহজ উপায় হলো দৈনন্দিন খাবারে তাজা ও ন্যূনতম প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিমাণ বাড়ানো। ভাত, রুটি, ডাল, শাকসবজি, মাছ, ডিম, মাংস, দুধ, ফল, বাদাম ও বিভিন্ন ধরনের বীজ নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। বাড়িতে রান্না করা খাবারকে অগ্রাধিকার দিলে খাবারে লবণ, চিনি ও তেলের পরিমাণও নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।

প্যাকেটের লেবেল দেখুন

প্যাকেটজাত খাবার কেনার আগে পুষ্টিগুণের তথ্য ও উপাদানের তালিকা দেখে নেওয়ার অভ্যাস করুন। অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বি রয়েছে কি না, তা খেয়াল করুন। শুধু ‘হেলদি’, ‘লো ফ্যাট’ বা ‘ন্যাচারাল’ লেখা দেখে কোনো খাবারকে স্বাস্থ্যকর ধরে নেওয়া ঠিক নয়। প্যাকেটের পেছনে থাকা উপাদান ও পুষ্টিগুণের তথ্যও দেখা প্রয়োজন।

ঘরে স্বাস্থ্যকর খাবার রাখুন

ক্ষুধা লাগলে যাতে সহজেই অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের দিকে ঝুঁকে না পড়েন, সে জন্য ঘরে স্বাস্থ্যকর খাবার প্রস্তুত রাখতে পারেন। মৌসুমি ফল, বাদাম, দই, সেদ্ধ ডিম বা ঘরে তৈরি হালকা নাশতা হাতের কাছে থাকলে প্যাকেটজাত খাবারের ওপর নির্ভরতা কমানো সহজ হয়।

ধীরে ধীরে অভ্যাস বদলান

অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার একদিনে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের একটি বা দুটি খাবার থেকে প্যাকেটজাত খাবার কমিয়ে তার বদলে তাজা বা ন্যূনতম প্রক্রিয়াজাত খাবার যোগ করা যেতে পারে। বাইরে খাওয়ার সময়ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে সহজ ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবার বেছে নেওয়ার অভ্যাস করুন।

কেন কমানো জরুরি

গবেষকদের মতে, একাধিক খাদ্য-সংযোজকের সংমিশ্রণ মানবস্বাস্থ্যের ওপর সম্মিলিত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। পরীক্ষাগারের গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ভৌত গঠনের পরিবর্তন অন্ত্রের অণুজীব বা গাট মাইক্রোবায়োমে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এতে প্রদাহ ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মতো সমস্যা বাড়তে পারে।

এ ছাড়া উচ্চ তাপমাত্রায় খাবার প্রক্রিয়াজাত করার সময় তৈরি হওয়া অ্যাক্রিলামাইড এবং চর্বি বা তেল গরম করার সময় উৎপন্ন অ্যাক্রোলিনের মতো কিছু উপাদানের সঙ্গেও হৃদরোগের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

প্রতিদিনের খাবারে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিমাণ কমিয়ে তাজা ও ন্যূনতম প্রক্রিয়াজাত খাবারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। ধীরে ধীরে খাদ্যাভ্যাসে এই পরিবর্তন আনলে স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার অভ্যাসও গড়ে উঠবে।