Home Lead হাম ও ডেঙ্গুতে বিপর্যস্ত খুলনা: একদিনে ৪ মৃত্যু

হাম ও ডেঙ্গুতে বিপর্যস্ত খুলনা: একদিনে ৪ মৃত্যু

0

স্টাফ রিপোর্টার।।

খুলনা বিভাগজুড়ে চিকিৎসাসেবার চরম বেহাল দশা এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ডেঙ্গু ও হাম এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কেবল এই দুই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিভাগে আরও চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঝিনাইদহে সন্দেহজনক হামে ঢলে পড়েছে দুটি তাজা প্রাণ, আর খুলনা জেলায় ডেঙ্গুর প্রাণঘাতী ছোবলে প্রাণ হারিয়েছেন দুজন।

এদিকে বিভাগের ১০ জেলাতেই হাসপাতালের শয্যা সংকট ও রোগীদের তীব্র ঠাঁইহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত এক দিনেই নতুন করে হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হয়েছেন অন্তত ৩৭৪ জন রোগী। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর থেকে প্রকাশিত পৃথক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক ও থমথমে চিত্র উঠে আসে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেনের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় কেবল ডেঙ্গু নিয়েই সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ধুঁকছেন ২৮৪ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা খুলনা জেলায়—একদিনেই আক্রান্ত ৯৫ জন, যার মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই লাইফ সাপোর্টের মতো পরিস্থিতিতে ভর্তি হয়েছেন ৪৮ জন। ১ জানুয়ারি থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গোটা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ১৯৯ জনে, আর সরকারি খাতায় মৃতের সংখ্যা ঠেকেছে ২৭ এ। বর্তমানে বিভাগে ডেঙ্গু নিয়ে তীব্র যন্ত্রণায় চিকিৎসাধীন ৯৩০ জন।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্য বিভাগের দীর্ঘদিনের নজরদারির অভাব ও টিকাদান কর্মসূচির শ্লথগতির খেসারত দিতে হচ্ছে হাম রোগীদের। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ৯০ জন সন্দেহজনক হামের রোগী হাসপাতালে ঠাঁই নিয়েছেন, যার মধ্যে খুলনা জেলাতেই সর্বোচ্চ ২১ জন। ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ১০ হাজার ৯৮৮ জন হামের রোগী শনাক্ত করা হয়েছে, এবং এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের।

একদিকে ডেঙ্গুর প্রজননক্ষেত্র ধ্বংসে প্রশাসনিক ঢিলেঢালা ভাব, অন্যদিকে হাম প্রতিরোধে দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপের অভাব—সব মিলিয়ে খুলনাবাসীর জীবন আজ এক চরম অনিশ্চয়তায় ঢাকা পড়েছে। কেবল লোকদেখানো ‘সতর্কতা বার্তা’ বা ‘স্বাস্থ্যবিধি মানার পরামর্শ’ না দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ ও জরুরি স্বাস্থ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি এখন গোটা খুলনাঞ্চলের।