Home খেলাধুলা অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ সিরিজের প্রস্তুতি যেভাবে নিয়েছেন মাঠ প্রস্তুতকারকেরা

অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ সিরিজের প্রস্তুতি যেভাবে নিয়েছেন মাঠ প্রস্তুতকারকেরা

1


স্পোর্টস ডেস্ক।।

দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে গেছে বাংলাদেশ। যেখানে অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহ্যবাহী গ্রীষ্মকালীন সূচির বাইরে প্রায় দুই দশক পর প্রথমবারের মতো সবচেয়ে জনপ্রিয় সংস্করণ টেস্ট ক্রিকেট ফিরছে। প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ খেলবে ডারউইন ও ম্যাকে।

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের তুলনায় ডারউইন ও ম্যাকের মাঠ প্রস্তুতকারীদের কাজ অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। ভয়ংকর আবহাওয়া, প্রচণ্ড আর্দ্রতা, অস্বাভাবিক ঘাসের বৃদ্ধি এমনকি মানুষখেকো সরীসৃপের উপস্থিতিও তাদের দৈনন্দিন বাস্তবতার অংশ। তবে এসব বাধাই যেন তাদের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরাতে পারেনি।

ডারউইনের জন্য এটি বিশেষ এক প্রত্যাবর্তন। অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবলে মেতে থাকা এই শহর এবার ক্রিকেটের ঐতিহ্যও তুলে ধরবে। মারারা ওভালে ডারউইনের প্রথম নিজস্ব টেস্ট ক্রিকেটার জেক ওয়েদারল্ড অস্ট্রেলিয়ার সবুজ টুপি পরে মাঠে নামতে পারেন।

অন্যদিকে ম্যাকে পৌঁছেছে দীর্ঘদিনের এক স্বপ্নপূরণের দ্বারপ্রান্তে। হারাপ পার্ককে উচ্চপর্যায়ের ক্রিকেটের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার যে পরিকল্পনা ছিল, তা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের মাধ্যমে এটি অস্ট্রেলিয়ার মাত্র দ্বাদশ পুরুষ টেস্ট আয়োজনকারী মাঠে পরিণত হবে।

ডারউইনে ক্রিকেটের উত্থান

উত্তরাঞ্চল ক্রিকেটের মাঠ ও স্থাপনা বিভাগের প্রধান জেক প্যাভলিশের দায়িত্বের পরিধি বেশ বিস্তৃত। মজা করে তিনি বলেন, ‘আমি আমার চাচাতো ভাই, সাবেক ফ্রিম্যান্টল ফুটবল তারকা ম্যাথিউ প্যাভলিশের মতো ক্যারিয়ার গড়ার জন্য খুব খাটো, মোটা আর ধীর ছিলাম।’

এখন তিনি শুধু ডারউইনের মারারা ওভালের মাঠের দায়িত্বেই নেই। প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরের শুষ্ক মরুভূমির শহর অ্যালিস স্প্রিংসের ট্রেগার পার্কের উইকেটও তার তত্ত্বাবধানে।

অ্যাডিলেডের তুলনামূলক শান্ত আবহাওয়ার সঙ্গে ডারউইনের পার্থক্য আকাশ-পাতাল। এখানে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বর্ষাকাল এবং মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুম। ফলে মাঠ পরিচর্যার পদ্ধতিও সম্পূর্ণ ভিন্ন।

মারারার ১২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার মাঠে ঘাস সম্পর্কে প্যাভলিশ বলেন, ‘একটি বিষয় হলো, এটি কখনোই বেড়ে ওঠা থামায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরপর আছে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির সঙ্গে লড়াই। ঘাসের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আপনাকে সবসময় পরিকল্পনা করতে হয়। আগাছাও আছে। কিন্তু বেশি আগাছানাশক ব্যবহার করতে চাই না, কারণ এতে ক্রিকেট উইকেটের জন্য প্রয়োজনীয় ঘাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অ্যাডিলেডের তুলনায় এটি সত্যিই ভিন্ন। মূল নীতিগুলো একই, কিন্তু চ্যালেঞ্জ আলাদা।’

ডারউইনের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ—এই তিন মাসে গড়ে যত বৃষ্টি হয়, অ্যাডিলেডে পুরো এক বছরেও তার অর্ধেকের মতো বৃষ্টি হয়। তাই অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চল যখন শীতের ঠান্ডায় কাঁপে, তখন ডারউইনে ক্রিকেট আয়োজন করা হয় অপেক্ষাকৃত শুষ্ক শীতকালজুড়ে।

বর্ষার আগে প্রচণ্ড আর্দ্রতার সময় ডারউইনের আবহাওয়া এতটাই কঠিন হয়ে ওঠে যে মাঠ পরিচর্যার অভিজ্ঞ ব্যক্তিরাও মানসিকভাবে চাপে পড়তে পারেন। স্থানীয়ভাবে এই সময়ের এক ধরনের অস্বস্তিকে ‘আমের উন্মাদনা’ বলা হয়।

তবে প্যাভলিশ সহজে বিচলিত হওয়ার মানুষ নন।

২০২৪ সালে উত্তরাঞ্চলে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল মূল স্টেডিয়ামের মাঝখানে একটি স্থানান্তরযোগ্য উইকেট বসানো। উইকেটটি দুই টুকরো করে আলাদা জায়গায় সংরক্ষণ করা হয় এবং পরে মাঠে এনে জোড়া লাগানো হয়।

২০০৩ সালে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ আয়োজনের সময় ডারউইনই প্রথম অস্ট্রেলীয় মাঠ হিসেবে দুই খণ্ডের উইকেট পদ্ধতি ব্যবহার করেছিল। পরে গোল্ড কোস্ট, লন্সেস্টন ও মেলবোর্নের ডকল্যান্ডসেও এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে।

তবে নিজের প্রিয় উইকেটকে দুই ভাগ করার বিষয়টি যে আদর্শ পদ্ধতি নয়, সেটিও স্বীকার করেন প্যাভলিশ।

হেসে তিনি বলেন, ‘এটা সত্যিই বিরক্তিকর। উইকেটের নিচের অবকাঠামো বেশ পুরোনো। শুধু কংক্রিটের একটি স্তরের ওপর বালি রয়েছে। স্থানান্তরযোগ্য উইকেটের শুরুর দিকের মেলবোর্ন ক্রিকেট মাঠের ব্যবস্থার সঙ্গে অনেকটা মিল আছে। প্রতি বছরই বিষয়টি কিছুটা জটিল। কখনো খুব ভালোভাবে বসে যায়, আবার কখনো বেশ কঠিন হয় এবং পরিস্থিতি বুঝে কাজ করতে হয়।’

তবে প্যাভলিশ ও তার দল যদি উইকেটের সংযোগস্থল ঠিকভাবে দেখভাল করতে পারেন, তাহলে দর্শকের চোখে কোনো পার্থক্য ধরা পড়বে না।

তিনি বলেন, ‘গত বছর কেউ বুঝতেই পারেনি যে এটি দুই খণ্ডের উইকেট ছিল। সেটিই আমাদের লক্ষ্য।’

গত কয়েক বছরে ডারউইনে অনুষ্ঠিত শীর্ষ পর্যায়ের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও প্রশংসা পেয়েছে এখানকার মাঠ। অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চল যখন শীতে কাঁপে, তখন ডারউইনে ক্রিকেট খেলতে বিভিন্ন দেশের দলও আগ্রহ দেখিয়েছে।

‘দেশের মাঠ’ থেকে টেস্ট ভেন্যু ম্যাকে

ম্যাকে এ মাসের শেষ দিকে প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেট আয়োজন করতে যাচ্ছে। এই মাঠের প্রধান প্রস্তুতকারক পিটার কাজাকফের রয়েছে অসাধারণ অভিজ্ঞতা।

ব্রিসবেন স্টেট হাইস্কুলের ছাত্র থাকতেই কাজাকফ মাঠ প্রস্তুতের কাজ শুরু করেন। ভলচার স্ট্রিট দিয়ে অল্প দূরত্ব পেরিয়ে তিনি পৌঁছে যেতেন গাব্বায়। সেখানে তখন মাঠের দায়িত্বে ছিলেন কিংবদন্তি মাঠ প্রস্তুতকারক কেভিন মিচেল জুনিয়র।

মিচেলের একটি বিশেষ গুণ ছিল—তিনি আবহাওয়ার পরিবর্তন আগে থেকেই বুঝতে পারতেন। আম্পায়াররা বৃষ্টির আচ্ছাদন চাইবার আগেই তিনি গাব্বার উইকেট ঢেকে ফেলতেন। স্কুল শেষ করার পর কাজাকফকে চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রেও তার দূরদর্শিতার পরিচয় পাওয়া যায়।

কাজাকফ বলেন, ‘সতেরো বছর পরও আমি সেখানেই ছিলাম। তার কাছ থেকে শেখার চেয়ে ভালো সুযোগ আর পাওয়া সম্ভব ছিল না। তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ছিলেন। কীভাবে হাতে-কলমে কাজ করতে হয় এবং চাপের মধ্যে কীভাবে নিজেকে সামলাতে হয়, তা তার কাছ থেকেই শিখেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘হঠাৎ করে অনেক কাজ করতে হয়, আর তিনি সেগুলো অসাধারণভাবে সামলাতেন। তার কাজের ফলই তার হয়ে কথা বলে।’

ম্যাকে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাস আগে গাব্বায় ভারতের কাছে অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক হারের সাক্ষী হয়েছিলেন কাজাকফ। তার আগে সেখানে অস্ট্রেলিয়া টানা ১৬ টেস্টে অপরাজিত ছিল।

কাজাকফ বলেন, ‘আমি প্রায় নিখুঁত রেকর্ড নিয়েই বিদায় নিতে পারতাম।’

তবে দুই দশকের কাছাকাছি সময় ধরে বিশ্বের অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত গাব্বার উইকেট তৈরির অভিজ্ঞতা নিয়ে সেখান থেকে বিদায় নেওয়াটা মোটেও খারাপ সমাপ্তি ছিল না।

ব্রিসবেন থেকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার উত্তরে ম্যাকে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার সামনে ছিল আরও বড় চ্যালেঞ্জ।

১৯৩৯ সালে ম্যাকে সাউথের জুলিয়েট স্ট্রিটের জমি কেনার সময় সেখানে ছিল কেবল গরুর চারণভূমি। গরু ঘুরে বেড়াত, ছিল বড় জলাশয় এবং বিশাল মোরেটন বে ডুমুরগাছ।

ক্রিকেটের প্রতি শহরের আগ্রহের কারণে জায়গাটি দ্রুতই মাঠে রূপান্তরিত হয়। ১৯৩১ সালের এপ্রিলে উত্তর কুইন্সল্যান্ড সফরে ডন ব্র্যাডম্যান যখন কংক্রিটের উইকেটে শতক করেন, তখন প্রায় ৬ হাজার দর্শক মাঠে এসেছিলেন। সে সময়কার ম্যাকে শহরের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

১৯৯২ সালে হারাপ পার্ক এতটাই আধুনিক হয়ে উঠেছিল যে এক দিনের বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের দায়িত্ব পায়। তবে বর্ষাকালের শেষদিকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্তের অসুবিধা সেদিন স্পষ্ট হয়ে যায়। তরুণ শচীন টেন্ডুলকারকে ব্যাট করতে দেখার আশায় মাঠে আসা দর্শকেরা মাত্র দুই বল হওয়ার পরই ম্যাচ পরিত্যক্ত হতে দেখেন।

এরপর আড়াই কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার ব্যয়ে মাঠটির ব্যাপক সংস্কার করা হয়। তৈরি হয় ২ হাজার আসনের গ্যালারি, আধুনিক পোশাক পরিবর্তনের কক্ষ ও সংবাদমাধ্যমের সুযোগ-সুবিধা। এর ফলে উচ্চপর্যায়ের ক্রিকেটের কেন্দ্র হওয়ার লক্ষ্য দ্রুত এগিয়ে যায়।

কাজাকফ বলেন, ‘সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল, তাদের এমন একজন মাঠ প্রস্তুতকারক দরকার ছিল, যার ওই পর্যায়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে।’

২০২১ সালে নারী দলের আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের পর ২০২৩ ও ২০২৪ সালে এখানে অস্ট্রেলিয়া এ দল, শেফিল্ড শিল্ড এবং এক দিনের কাপের ম্যাচ হয়েছে। এরপর গত বছরের আগস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি দিন-রাতের এক দিনের ম্যাচ আয়োজন করা হয়।

ম্যাকে ও ডারউইন টাউনসভিল ও কেয়ার্নসকে পেছনে ফেলে অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী টেস্ট ভেন্যু হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে—এ খবর শুনে কাজাকফ যেমন গর্বিত হয়েছেন, তেমনি কিছুটা বিস্মিতও।

হারাপ পার্ককে ২০৩২ সালের অলিম্পিক গেমসের ক্রিকেট আয়োজনের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।

কাজাকফ বলেন, ‘এ বছর আমরা বড় মঞ্চে উঠে এসেছি। এটি একসময় ছিল স্থানীয় পর্যায়ের ক্রিকেট মাঠ। আমরা সেটিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের টেস্ট ভেন্যুতে রূপান্তর করেছি। বিষয়টি সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

উত্তরের আবহাওয়ার বাধা

ডারউইন ও ম্যাকে তুলনামূলক শীতল ও শুষ্ক মৌসুমে টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করা হচ্ছে। বৃষ্টির আশঙ্কা কম থাকলেও এতে নতুন ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে দুই মাঠ প্রস্তুতকারকের জন্য।

মধ্য কুইন্সল্যান্ডে শীতকালে তাপমাত্রা কখনো কখনো এক অঙ্কে নেমে যায়। কাজাকফ বলেন, ‘সকালে হলেও আপনাকে সোয়েটার পরতে হয়।’

তাপমাত্রা কমে গেলে ঘাসের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।

ডারউইনে শুষ্ক মৌসুমে লবণপানির কুমিরের আক্রমণের আশঙ্কা যেমন কমে যায়, তেমনি মাঠকর্মীরাও কিছুটা স্বস্তি পান। তবে তুলনামূলক উষ্ণ আবহাওয়া সত্ত্বেও প্যাভলিশের সমস্যার শেষ নেই।

তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত আবহাওয়া চমৎকার থাকে। তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি, আর্দ্রতাও কম। দেখলে মনে হবে ঘাস বেড়ে ওঠার জন্য আদর্শ সময়।’

তবু মাটির তাপমাত্রা ধরে রাখতে বিশেষ জালজাতীয় আবরণ ব্যবহার করতে হচ্ছে।

প্যাভলিশ বলেন, ‘তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রির নিচে নেমে গেলে আমরা স্পষ্ট পার্থক্য বুঝতে পারি। ঘাসের বৃদ্ধি প্রায় থেমে যায়। বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, কিন্তু এগুলো ব্যবহার করলে আমরা বড় ধরনের উন্নতি দেখতে পাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘অ্যাডিলেডে আমরা এগুলো নিয়মিত ব্যবহার করি। এখানে এসে ভেবেছিলাম কখনোই ব্যবহার করতে হবে না। কিন্তু এখন প্রায় তিন মাস ধরে এগুলো ব্যবহার করে বেশ ভালো ফল পাচ্ছি।’

দুই মাঠ প্রস্তুতকারকই জানেন, গত বছর উচ্চপর্যায়ের সাদা বলের ক্রিকেটের জন্য ভালো উইকেট তৈরি করা আর এবার পাঁচ দিন ধরে মানসম্মত টেস্ট ম্যাচ চালানোর উপযোগী উইকেট তৈরি করা এক বিষয় নয়।

অভিজ্ঞতম মাঠ প্রস্তুতকারকরাও কখনো ভুল করতে পারেন। গত গ্রীষ্মের বক্সিং ডে অ্যাশেজে মেলবোর্ন ক্রিকেট মাঠের অতিরিক্ত সজীব উইকেট তারই উদাহরণ।

প্যাভলিশ বলেন, ‘অবশ্যই কিছুটা চাপ আছে।’

কাজাকফও স্বীকার করেন, ‘কুইন্সল্যান্ডের একমাত্র টেস্টের উইকেটের দায়িত্বে থাকা কিছুটা ভীতিকর।’

তবে এই দুই মাঠ প্রস্তুতকারকই শুধু চান না যে দেশের কখনো কখনো উপেক্ষিত এই অংশে টেস্ট ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন সফল হোক।

কাজাকফ বলেন, ‘প্রথম দিনের সকালে আম্পায়াররা যখন মাঠে পা রাখবেন, তখন আমরা গেট বন্ধ করে দেব। এরপর বসে থেকে আশা করব, একটি দুর্দান্ত টেস্ট ম্যাচ উপভোগ করতে পারব।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট সিরিজ

প্রথম টেস্ট: ১৩ থেকে ১৭ আগস্ট, মারারা স্টেডিয়াম, ডারউইন

দ্বিতীয় টেস্ট: ২২ থেকে ২৬ আগস্ট, গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনা, ম্যাকে