Home আঞ্চলিক ফলন ভালো, দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় পাটচাষি: সরকারিভাবে দাম নির্ধারণের দাবি

ফলন ভালো, দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় পাটচাষি: সরকারিভাবে দাম নির্ধারণের দাবি

2

নড়াইল প্রতিনিধি।।

মৌসুমের প্রথম দিকে পাটের বাজার দর ছিল চার হাজার ৫০০ টাকা, সেই দর কমে এখন তিন হাজারে দাঁড়িয়েছে। দর কমে যাওয়ায় অনেকটা হতাশ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের শুলধিয়া গ্রামের এই চাষি।

শনিবার (৮ আগস্ট) মনু মোল্যার সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। এ সময় মনু মোল্যা বলেন, ‘পাট চাষ করে যে টাকা খরচ হয়েছে, সেই তুলানায় দর দাম নাই। বাজার দর যদি না বাড়ে তাহলে আগামী বছর হয়তো পাট চাষ করা হবে না।’

মনু মোল্যার মতো জেলার অধিকাংশ কৃষক দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পাটের দাম নিয়ে। তারা বলছেন, প্রতিবছর উৎপাদন খরচ বাড়লেও পাটের দাম বাড়েনি। এ কারণে পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন বলে জানাচ্ছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নড়াইলের গ্রামীণ জনপদে পাট কাটা, পচানো এবং ধোঁয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন পাট চাষিরা। অনেকে পাটের পাশাপাশি পাটকাটি প্রক্রিয়াজাত করে ঘরে তুলছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর পাটের ভালো ফলন হয়েছে।

নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের কোড়গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে চিত্রা নদী। সেই নদীতে পাট জাগ দিচ্ছেন ওই গ্রামের কৃষক দীপক রায়।

তার ভাষ্য, পাটের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আর কোনো আশা নেই। প্রথম দিকে পাটের দাম ছিল মণপ্রতি চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এখন কেবল জাগ দিচ্ছি। এই পাট বাছাই করে ধুয়ে রোদে দিয়ে হাটে নিতে এখনো অনেক সময়। সেই সময় হয়তো দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায় নামবে।’

দীপক রায় আরো বলেন, ‘একজন শ্রমিকের দাম ৫০০ টাকা। সকাল ৯টায় কাজে আসে, দুপুর ১টায় চলে যায়। কয় ঘণ্টা কাজ করে?’ তিনি বলেন, ‘চাষার বাঁচার কোনো পথ নেই। এক আটি পাট ঘরে তুলতে ২০ টাকা খরচ হয়ে যায়। ফলন ভালো আছে। কিন্তু বাজার যদি ঠিক না থাকে তাহলে আমাদের বাঁচার আর কোনো পথ নেই।’

মোবারক নামের এক চাষি বলেন, ‘মাঠ থেকে এক আটি পাট আনতে ১০ টাকা দিতে হচ্ছে। জমি প্রস্তুত করা, পাট কাটা,পচানো, বাছাই, শুকানো সব মিলে পাটে যে খরচ, তাতে আমরা লাভবান হতে পারছি না। হাট থেকে পাট বিক্রি করে সেটি আবার শ্রমিকদের দিয়ে দিতে হচ্ছে। সরকারের কাছে আবেদন, পাটের দাম সরকারিভাবে নির্ধারণ করা হোক।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে নড়াইলে ২৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। আবাদ হয়েছে ২৩ হাজার ৫১৭ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭ হেক্টর বেশি। উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাটের আবাদ হয়েছে লোহাগড়ায়—১২ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে। এ ছাড়া সদর উপজেলায় ছয় হাজার ৯৪২ হেক্টর এবং কালিয়া উপজেলায় চার হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. আরিফুর রহমান বলেন, ‘এ বছর অনুকূল আবাহাওয়া এবং কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সময়মত উন্নত মানের বীজ,সার,ও কারিগরি পরামর্শ দেওয়ায় জেলায় পাটের আবাদ ও ফলন ভালো হয়েছে। তবে বাজারে পাটের দাম উঠানামা করছে, যা কৃষকদের উদ্বিগ্ন করছে। পাটের গুণগত মানোন্নয়নে আমরা নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছি।’