আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের স্থলভাগের সম্মুখসারিতে বড় ধরনের পরিবর্তন না এলেও আকাশপথে হামলা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। গত মাসে রাশিয়া প্রতিদিন গড়ে ১৭২টি হামলা চালিয়েছে, যেখানে ইউক্রেনের গড় ছিল ২৮টি।
ফলে উভয় পক্ষের আক্রমণ সক্ষমতা এখন অনেক ক্ষেত্রে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা সফল হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং প্রতি সপ্তাহেই বাড়ছে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা।
আন্তর্জাতিক সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডির পূর্ব ইউরোপ গবেষণা ব্যবস্থাপক ওলহা পোলিশচুক বলেন, হামলার ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা দুটোই বেড়েছে। একই সঙ্গে হামলার লক্ষ্যবস্তুর বৈচিত্র্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংবাদ মাধ্যম সিএনএন বলছে, গত এক বছরে রাশিয়ার গভীরে হামলার ক্ষেত্রে ইউক্রেনের ড্রোন প্রযুক্তির সক্ষমতা দ্রুত বেড়েছে। জুনের শেষ দিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে ড্রোন হামলা বাড়ানোর ৪০ দিনের অভিযান ঘোষণা করেন। তার শীর্ষ উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এখন রাশিয়ার তেল শোধনাগার, তেলবাহী ট্যাংকার, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোয় নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন। পাশাপাশি রুশ সামরিক সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত করতে অধিকৃত পূর্বাঞ্চলেও বিমান হামলা বাড়িয়েছে কিয়েভ।
রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামেও হামলা হয়েছে। ইউক্রেনীয় সরকার এসব স্থাপনাকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দাবি করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের রোজেটকা ইলেকট্রনিকসের গুদামেও রাশিয়া হামলা চালিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দিতে বাধ্য করাই ইউক্রেনের অন্যতম কৌশল।
একই সঙ্গে মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গসহ রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে হামলা চালিয়ে যুদ্ধের চাপ সাধারণ রুশ নাগরিক ও দেশটির ব্যবসায়ী মহলের ওপরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে কিয়েভ। তবে পাল্টা হামলায় রাশিয়াও ইউক্রেনে ব্যাপক আকাশ হামলা চালাচ্ছে। গত মাসে রাশিয়া প্রতিদিন গড়ে ১৭২টি হামলা চালিয়েছে, যেখানে ইউক্রেনের গড় ছিল ২৮টি। জুলাইয়ে রাশিয়া ইউক্রেনে ১৩৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে—এ বছর এক মাসে যা সর্বোচ্চ।
জাতিসংঘের হিসাবে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউক্রেনে অন্তত ১ হাজার ৩৯৬ বেসামরিক মানুষ নিহত ও ৭ হাজার ৯৭৮ জন আহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৩৭ শতাংশ বেশি। জুনে ২০২২ সালের পর এক মাসে ইউক্রেনে সর্বোচ্চ বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও রেকর্ড করা হয়েছে।










































