Home আঞ্চলিক ডুমুরিয়ায় মুহুরি পরিবারের পেটে ৩০ একর খাসজমি

ডুমুরিয়ায় মুহুরি পরিবারের পেটে ৩০ একর খাসজমি

2

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।

উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের সাধারণ এক মুহুরির পদকে ‘আলাদিনের চেরাগ’ বানিয়ে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারের প্রায় ৩০.৩৭ একর সরকারি খাসজমি হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। নিজের নামের পাশাপাশি মা, স্ত্রী, সন্তান ও নাতনির নাম ব্যবহার করে এমনকি আত্মীয়দের পরিচয় ও সম্পর্ক পাল্টে (বাবাকে স্বামী, স্বামীকে বাবা দেখিয়ে) কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছেন ডুমুরিয়ার কুমারঘাটা গ্রামের প্রয়াত আব্দুর রহমান মোল্যা।

জালিয়াতির বিষয়টি উন্মোচিত হওয়ার পর খাসজমি পুনরুদ্ধারে আব্দুর রহমানের উত্তরাধিকারী সন্তান ইয়াছিন মোল্যা, রমিছা বেগম ও মনোয়ারা বেগমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালতে স্বত্ব প্রচার মামলা দায়ের করেছে সরকার। গত ৯ জুলাই খুলনা যুগ্ম জেলা জজ দ্বিতীয় আদালতে এ মামলাটি করা হয়।

সম্পর্কের নাম বদলে খাসজমি দখল:

এজাহারের নথিসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেকর্ড সার্ভিস (বিআরএস) ২৭৫ নম্বর খতিয়ানে লতারবুনিয়া মৌজায় ইয়াছিন মোল্যার নামে ১ একর জমি রেকর্ড হয়। পরবর্তীতে বাবার নামের সামান্য পরিবর্তন এনে একই মৌজায় আরও ৭৫ শতাংশ এবং ৩ একর ২০ শতাংশ খাসজমি রেকর্ড করিয়ে নেন তিনি।

একইভাবে মনোয়ারা খাতুন বিআরএস ২৭০ নম্বর খতিয়ানে আব্দুর রহমানকে ‘স্বামী’ দেখিয়ে ১ একর এবং ৩০৯ নম্বর খতিয়ানে আব্দুর রহমানকে ‘বাবা’ দেখিয়ে আরও ১ একর খাসজমি হাতিয়ে নেন। অন্যদিকে রমিছা বেগম স্বামী ‘আ. রহমান’ নামে সাহস মৌজায় ১ একর জমি রেকর্ডের পর, একই মৌজায় নিজের বাবা মহাতাবকে ‘স্বামী’ বানিয়ে আরও ১ একর ৪০ শতাংশ খাসজমি নিজের নামে লিখিয়ে নেন।

নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে দখল:

সরকারি কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত নীতিমালা অনুযায়ী কেবল ভূমিহীন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা বা বিধবারা সর্বোচ্চ ১ একর কৃষি খাসজমি পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু সেটেলমেন্ট অফিসের ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাহস মৌজায় ১৬.৩১ একর, লতারবুনিয়া মৌজায় ৮.৪৫ একর, জয়খালী মৌজায় ৩.৪৫ একর, কাকমারী মৌজায় ০.৫০ একর, মৌখালী মৌজায় ০.৬৬ একর এবং বাঁশতলা মৌজায় ১ একর জমি দখলে নেন আব্দুর রহমান।

প্রতারণা ও স্থানীয় ক্ষোভ:

কুমারঘাটা এলাকার একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, সেটেলমেন্ট অফিসের প্রভাব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে খাসজমি পাইয়ে দেওয়ার নাম করেও কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আব্দুর রহমান। এমনকি আত্মীয়দের সিএস ও এসএ রেকর্ডের জমিও প্রতারণা করে নিজের নামে নেন তিনি। প্রতারণার মাত্রা এতটাই ছিল যে, পাঁচ বছর আগে তাঁর মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা দাফনকাজ পর্যন্ত বাধাগ্রস্ত করেছিলেন।

তবে বেনামে জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুর রহমানের ছেলে ইয়াছিন মোল্যা দাবি করেছেন, তাঁরা আদালতের নোটিশ পেয়ে বন্দোবস্ত ও সোলেমানামার মাধ্যমেই জমি পেয়ে রেকর্ড করেছেন।

আইনি অগ্রগতির বিষয়ে খুলনা জজকোর্টের সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) ড. জাকির হোসেন এবং অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি আবুল খায়ের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দখলকৃত ৩০.৩৭ একর খাসজমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা। মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং শিগগিরই এই বিশাল সম্পত্তি সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।