Home আঞ্চলিক বছরের পাঁচ মাস পানিবন্দি, চরম দুর্ভোগে ৫ শতাধিক পরিবার

বছরের পাঁচ মাস পানিবন্দি, চরম দুর্ভোগে ৫ শতাধিক পরিবার

2


শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি।।

বাড়ির উঠানে হাঁটুপানি। রাস্তাঘাট, পুকুর, খেলার মাঠ সবই একাকার। জমে থাকা পানিতে ভাসছে ময়লা-আবর্জনা। সেই পানিতেই গোসলসহ দৈনন্দিন সব কাজ সারতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। এতে একদিকে যেমন ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, অন্যদিকে বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। চারিদিকে পানি জমে থাকায় বাড়ির শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত বাসিন্দারা।


জলাবদ্ধতার এই ভয়াবহ চিত্রটি বাগেরহাটের শরণখোলার। উপজেলার রায়েন্দা শহরতলীর উত্তর কদমতলা, আরকেডিএস বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা, পুরনো পোস্ট অফিস এবং রায়েন্দা বাজার দাখিল মাদ্রাসায় এলাকা বছরে পাঁচ মাস থাকে এমন পানি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এলাকার পানি নিষ্কাশনের ডোবা-নালা ভরাট করে অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ করায় আরো বেড়েছে এই সমস্যা। বর্ষা মৌসুম এলে দুর্ভোগের আর সীমা থাকে না। বছরের প্রায় পাঁচ মাস এমন দুর্বিসহ দিন কাটাতে হয় বাসিন্দাদের। বছরের পর বছর ধরে এমন দুর্ভোগের শিকার ওই এলাকার পাঁচ শতাধিক পরিবার।

প্রতিনিয়ত নোংরা পানি ব্যবহার এবং শরীরে লাগার কারণে ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে চর্মরোগ। জমা পানিতে মশার প্রজনন বাড়ায় দেখা দিয়েছে ডেঙ্গুসহ পানিবাহিত নানা রোগব্যাধী ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও।


আরকেডিএস বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার, নাসরিন আক্তারসহ অনেইে জানায়, ঘর থেকে পা বাড়ালেই পানি। সেই নোংরা পানি মাড়িয়ে প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয় তাদের। বর্ষার সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পানিতে পোশাক ভিজে যায়। পানি লাগলে হাত-পায়ে চুলকানি শুরু হয়। অনেক সময় পানিতে ভাসতে দেখা যায় সাপ, জোঁক, কেঁচো। এতে অনেক সময় বিদ্যালয়ে যেতেও ভয় লাগে।

গৃহিনী তাসলিমা বেগম জানালেন, উঠানে পানি, বাড়ির চারপাশে পানি। ঘরের শিশুদের নিয়ে সবসময় ভয়ে থাকতে হয়। থালাবাসন, কাপড়চোপড় ধোয়া, গোসল করা সবই একই পানিতে করতে হচ্ছে। শিশুদের শরীরে চর্মরোগ দেখা দিয়েছে। এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা মাস্টার আজাহার আলী বললেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। বাইরে বের হওয়ার উপায় থাকে না। মাসের পর মাস পানি জমে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে বহুবার বলেও এর কোনো সমাধান পাইনি আজও।’
আরেক বাসিন্দা বাবুল জমাদ্দার বললেন, ‘বাড়ি থেকে বের হয়েই পানিতে পা রাখতে হয়। শিক্ষর্থী, বয়স্ক মানুষ, নারী ও শিশুদের বেশি দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। বাড়ির উঠান ও মাঠঘাট তলিয়ে থাকায় শিশুদের স্বাভাবিক চলাচল ও খেলাধুলা বন্ধ হয়ে গেছে। বছরের প্রায় পাঁচ মাসই পানিরবন্দি অবস্থায় থাকতে হয় আমাদের।’


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পরই বন্ধ হয়ে যায় সেই প্রকল্পটি। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করে দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয় গোপাল বিশ্বাস বললেন, ‘দীর্ঘদিন বদ্ধ পানি ব্যবহারে চর্মরোগসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগব্যাধির ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে জমা পানিতে মাশার বংশবিস্তার বাড়ে এবং তৈরি হয় ডেঙ্গুর ঝুঁকিও। বর্তমান সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে চর্মরোগে আক্রান্ত নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসার পাশপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকারও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে তাদের।’


শরণখোলা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলামের ভাষ্য, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছাড়া জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব নয়। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রকল্প নেওয়ারও সুযোগ নেই এখানে। তবে আগের প্রকল্পটি কোন অবস্থায় আছে সেটি খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।