স্টাফ রিপোর্টার।।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে খুলনা মহানগরীসহ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও নাশকতার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। ২৩ জুন দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বেআইনি কর্মসূচি, আকস্মিক শোডাউন কিংবা চোরাগোপ্তা নাশকতার চেষ্টা হতে পারে-এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খুলনার প্রবেশমুখসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
গোয়েন্দা নজরদারি ও আকস্মিক মিছিলের প্রেক্ষাপট:
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা খুলনার বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, গত শনিবার খুলনার সিটি বাইপাস সড়কের লতা নামক স্থানে নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের একটি ঝটিকা মিছিলের ঘটনা এবং এর প্রেক্ষিতে আড়ংঘাটা থানায় ৫২ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়েরের পর প্রশাসন আরও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশনা অনুযায়ী, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য সব ধরণের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে এই বিশেষ নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কেএমপি ও জেলা পুলিশের বিশেষ প্রস্তুতি:
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে খুলনা মহানগরী ও জেলার সার্বিক শান্তিময় পরিবেশ বজায় রাখতে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) ও জেলা পুলিশ বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নগরীর প্রবেশমুখগুলোতে (যেমন: রূপসা ঘাট, জেলখানা ঘাট, গল্লামারী ও জোড়াগেট) চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। খুলনা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মোড় ও স্পর্শকাতর স্থানে বিশেষ তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। নিয়মিত টহল পুলিশের পাশাপাশি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও বিশেষায়িত ইউনিটগুলো সাদা পোশাকে নজরদারি বাড়িয়েছে।
নাশকতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স:
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের সব ধরণের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও কর্মসূচি নিষিদ্ধ রয়েছে। ফলে ২৩ জুনের যেকোনো ধরণের রাজনৈতিক জমায়েত বা কর্মসূচিকে সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত হিসেবে দেখা হবে। খুলনার মাটিতে কোনো ধরনের নৈরাজ্য বা নাশকতা বরদাশত করা হবে না এবং কেউ আইন ভাঙার চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, নিষিদ্ধ সংগঠনের নাশকতার ছক রুখতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোও সচেতন রয়েছে। যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি বা তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানিয়ে সহায়তার জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ জানিয়েছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।









































