স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনায় একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী তুষার শিকদারসহ তার ৫ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রবিবার (২১ জুন, ২০২৬) ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিদেশী পিস্তল, একটি রিভলবার ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়:
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন: ১. মো: তুষার শিকদার, শেখপাড়া মেইন রোডের বাসিন্দা মো: রুহুল আমিনের ছেলে। ২. মো: আবরার ফয়সাল বাদিন, গোবরচাকা এলাকার বাসিন্দা এস এম আইয়ুব আলীর ছেলে। ৩. মো: আল আমিন, শেখপাড়া লোহাপট্টি এলাকার বাসিন্দা নূর ইসলামের ছেলে। ৪. মো: আসিফ, সোনাডাঙ্গা নবীনগর খালাসি মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা গাউসুল আজমের ছেলে। ৫. মো: সাজ্জাদ হোসেন সাব্বির- টুটপাড়া জোড়াকল বাজার এলাকার বাসিন্দা মো: সাজ্জাদ হোসেনের ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবি ডিসি’র বক্তব্য:
রবিবার খুলনা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো: আহদুজ্জামান জানান, অতি সম্প্রতি খুলনায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ও মাদক কারবারিদের দমনে কেএমপির পক্ষ থেকে ১ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্য ও অত্যাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল ঢাকায় আত্মগোপনে থাকা এই শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অবস্থান শনাক্ত করে এবং সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

মামলার পাহাড় ও অস্ত্র উদ্ধার:
ডিবি ডিসি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা খুলনার একটি শীর্ষ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে হত্যা, অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে দেখানো স্থান থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, একটি ওয়ান শুটার গান (রিভলবার) এবং দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় অস্ত্র আইনে নতুন একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

অপরাধীদের কোনো ছাড় নেই:
সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে কেএমপির ডিবি ডিসি মো: আহদুজ্জামান দৃঢ়তার সাথে বলেন, “খুলনা মহানগরীতে কোনো অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ কিংবা মাদক কারবারিকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। রাষ্ট্রে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ ছাড়া আর কোনো সমান্তরাল বাহিনী থাকবে না। নগরবাসীর শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এই চিরুনি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”











































